কবিতার খাতা
- 23 mins
তাহারেই পরে মনে- সুফিয়া কামাল।
তাহারেই পরে মনে – সুফিয়া কামাল | বাংলা কবিতা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ
তাহারেই পরে মনে কবিতা সম্পর্কে বিশদ বিশ্লেষণ
সুফিয়া কামালের “তাহারেই পরে মনে” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি উৎকৃষ্ট রচনা। “হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” – এই প্রথম চরণগুলি কবিতার মূল সুর নির্ধারণ করেছে। সুফিয়া কামালের এই কবিতায় বসন্ত ঋতু, কবির নীরবতা এবং অতীত স্মৃতির টানকে অত্যন্ত শিল্পসৌকর্যের সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে। কবিতা “তাহারেই পরে মনে” পাঠকদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব বিস্তার করে এবং বাংলা কবিতার ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে। এই কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল প্রকৃতির সাথে মানবিক আবেগের সম্পর্ক, স্মৃতির জগত এবং কবি সত্তার অন্তর্দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছেন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে।
তাহারেই পরে মনে কবিতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
সুফিয়া কামাল রচিত “তাহারেই পরে মনে” কবিতাটি রচিত হয়েছিল বাংলা কবিতার রোমান্টিক যুগে। কবি সুফিয়া কামাল তাঁর সময়ের প্রকৃতি চেতনা, কবি সত্তার অভিব্যক্তি এবং মানবিক সম্পর্কের জটিলতাকে এই কবিতার মাধ্যমে চিত্রিত করেছেন। “হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়” লাইনটি দিয়ে শুরু হওয়া এই কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং পাঠকদের মধ্যে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এটি সুফিয়া কামালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে বিবেচিত হয় যা কবি মনের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও স্মৃতির টানকে ফুটিয়ে তুলেছে। কবিতাটির মাধ্যমে কবি বসন্ত ঋতুর বাহ্যিক সৌন্দর্য ও অভ্যন্তরীণ শূন্যতার দ্বন্দ্বকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।
তাহারেই পরে মনে কবিতার সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও শৈলী
“তাহারেই পরে মনে” কবিতাটির ভাষা অত্যন্ত কাব্যিক ও সংলাপধর্মী। কবি সুফিয়া কামাল প্রশ্নোত্তর ধাঁচের মাধ্যমে একটি গভীর আবেগ সৃষ্টি করেছেন। “হে কবি! নীরব কেন” – এই প্রশ্নবোধক বাক্যটি কবিতার মূল কাঠামো নির্ধারণ করেছে। “ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” – এই প্রথম লাইনে কবি বসন্ত ঋতুর আগমন ও কবির নীরবতার মধ্যে বিরোধকে তুলে ধরেছেন। কবি সুফিয়া কামালের শব্দচয়ন ও উপমা ব্যবহার বাংলা কবিতার ধারায় নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি বর্ণনার সঙ্গে মানবিক আবেগের মেলবন্ধন ঘটেছে। কবিতায় “বাতাবী নেবুর ফুল”, “আমের মুকুল”, “মাধবী কুঁড়ি” প্রভৃতি প্রকৃতির চিত্রকল্প ব্যবহার করে কবি বসন্তের সৌন্দর্যকে প্রকাশ করেছেন।
তাহারেই পরে মনে কবিতার দার্শনিক তাৎপর্য
সুফিয়া কামালের “তাহারেই পরে মনে” কবিতায় কবি স্মৃতি, সময় এবং আবেগের জটিল সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলেছেন। “তাহারেই পরে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে” – এই চরণটির মাধ্যমে কবি অতীত স্মৃতির অমোচনীয়তা ও বর্তমানের সাথে তার দ্বন্দ্বকে প্রকাশ করেছেন। কবিতাটি পাঠককে আত্মানুসন্ধান ও সময়ের স্বরূপ বুঝতে পরিচালিত করে। সুফিয়া কামাল দেখিয়েছেন কিভাবে কবি সত্তা বাহ্যিক সৌন্দর্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অতীত স্মৃতির জগতে নিমজ্জিত থাকে। কবিতা “তাহারেই পরে মনে” স্মৃতি, সময় ও সৃষ্টির গভীর দার্শনিক ভাবনা উপস্থাপন করেছে। কবি বর্তমানের সৌন্দর্য ও অতীতের টানের মধ্যে মানব মনের দ্বন্দ্বকে কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
তাহারেই পরে মনে কবিতার কাঠামোগত বিশ্লেষণ
সুফিয়া কামালের “তাহারেই পরে মনে” কবিতাটি একটি অনন্য কাঠামোয় রচিত। কবিতাটির গঠন সম্পূর্ণভাবে সংলাপধর্মী – যেখানে একটি কণ্ঠ কবিকে প্রশ্ন করছে এবং কবি তার উত্তর দিচ্ছেন। “হে কবি! নীরব কেন” লাইনটি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে গভীর দার্শনিক অভিব্যক্তিতে রূপ নেয়। কবি সুফিয়া কামাল কবিতার মাধ্যমে তিনটি প্রধান স্তর অতিক্রম করেছেন – প্রথমে বসন্তের বর্ণনা ও কবির নীরবতার কারণ অনুসন্ধান, পরে কবির মানসিক অবস্থার প্রকাশ এবং শেষে অতীত স্মৃতির উন্মোচন। কবিতায় প্রশ্নোত্তরের এই ধারা পাঠককে কবির মানসিক জগতে নিয়ে যায়। কবিতাটির শেষাংশে কবির স্বীকারোক্তি পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে, যা একটি মর্মস্পর্শী সমাপ্তি তৈরি করেছে।
তাহারেই পরে মনে কবিতার বিষয়বস্তু ও মূল বার্তা
“তাহারেই পরে মনে” কবিতাটির মূল বিষয় হলো কবি সত্তার অন্তর্দ্বন্দ্ব, স্মৃতির টান এবং বর্তমান থেকে বিচ্ছিন্নতা। “হে কবি! নীরব কেন” লাইনটি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি কবির নীরবতার রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করে। কবি সুফিয়া কামাল দেখিয়েছেন কিভাবে একজন কবি বাহ্যিক সৌন্দর্য (“ফাল্গুন”, “বসন্ত”) উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারেন। কবিতাটির মাধ্যমে কবির মানসিক অবস্থা, সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অতীত স্মৃতি এবং বর্তমানের সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্নতা নিয়ে গভীর ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে। “তাহারেই পরে মনে” কবিতা কবি মনের জটিলতা ও স্মৃতির শক্তিকে খুব সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। কবিতায় “কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী” অতীতের প্রতীক যা কবির মনে গভীরভাবে অঙ্কিত।
কবি সুফিয়া কামাল পরিচিতি ও সাহিত্যকর্ম
সুফিয়া কামাল বাংলা সাহিত্যের একজন প্রথিতযশা কবি, সমাজসেবী ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তাঁর কবিতায় নারীমুক্তি, সমাজসংস্কার, প্রকৃতি প্রেম এবং মানবিক মূল্যবোধের গভীর চিত্রণ পাওয়া যায়। তিনি বাংলা কবিতায় নতুন ধারার সূচনা করেন এবং সমসাময়িক কবিতাকে সমৃদ্ধ করেন। সুফিয়া কামাল বাংলা সাহিত্যে নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। “তাহারেই পরে মনে” কবিতার মাধ্যমে সুফিয়া কামাল বাংলা সাহিত্যে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন। তাঁর কবিতায় নারীর অভিব্যক্তি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং কাব্যিক সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।
কবি সুফিয়া কামালের সাহিত্যকর্ম
সুফিয়া কামালের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “সাঁঝের মায়া”, “মায়া কাজল”, “মন ও জীবন”, “শ্রাবণ ঘন” প্রভৃতি। তাঁর রচনাবলি বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে এবং বাংলা কবিতার বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সুফিয়া কামালের কবিতা বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর “তাহারেই পরে মনে” কবিতাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যা কবি মনের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও স্মৃতির জগতকে প্রকাশ করে।
কবি সুফিয়া কামালের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
সুফিয়া কামালের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কাব্যিক ভাষা, গভীর আবেগ এবং সামাজিক চেতনা। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সামাজিক বাস্তবতার অদ্ভুত সমন্বয় লক্ষণীয়। সুফিয়া কামাল প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনার মাধ্যমে মানবিক আবেগ প্রকাশে বিশেষ দক্ষ ছিলেন। তাঁর কবিতায় রয়েছে সঙ্গীতময়তা ও ছন্দের সৌকর্য। “হে কবি! নীরব কেন” লাইনের মতো সরল কিন্তু গভীর প্রশ্ন তৈরি করতে তিনি বিশেষভাবে সক্ষম। তাঁর কবিতায় নারী হৃদয়ের আবেগ, প্রকৃতি প্রেম এবং সামাজিক সচেতনতা উপস্থাপনের একটি অনন্য শৈলী রয়েছে।
তাহারেই পরে মনে কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
তাহারেই পরে মনে কবিতার লেখক কে?
তাহারেই পরে মনে কবিতার লেখক প্রখ্যাত বাংলা কবি সুফিয়া কামাল। তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি হিসেবে স্বীকৃত।
তাহারেই পরে মনে কবিতার প্রথম লাইন কি?
তাহারেই পরে মনে কবিতার প্রথম লাইন হলো: “হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
তাহারেই পরে মনে কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
তাহারেই পরে মনে কবিতার মূল বিষয় হলো কবির নীরবতা, বসন্ত ঋতু থেকে বিচ্ছিন্নতা, অতীত স্মৃতির টান এবং কবি সত্তার অন্তর্দ্বন্দ্ব।
তাহারেই পরে মনে কবিতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
তাহারেই পরে মনে কবিতার বিশেষত্ব হলো এর সংলাপধর্মী গঠন, প্রশ্নোত্তর শৈলী এবং কবি মনের গভীর অনুসন্ধান।
সুফিয়া কামালের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা কোনগুলো?
সুফিয়া কামালের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে “সাঁঝের মায়া”, “মায়া কাজল”, “মন ও জীবন”, “শ্রাবণ ঘন” প্রভৃতি।
তাহারেই পরে মনে কবিতাটি কোন সাহিত্যিক ধারার অন্তর্গত?
তাহারেই পরে মনে কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক ধারার অন্তর্গত এবং এটি আধুনিক কবিতার বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তাহারেই পরে মনে কবিতাটির সামাজিক প্রভাব কী?
তাহারেই পরে মনে কবিতাটি পাঠকদের মধ্যে কবি মনের জটিলতা, স্মৃতির শক্তি এবং সৃষ্টি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে।
তাহারেই পরে মনে কবিতাটির ভাষাশৈলীর বিশেষত্ব কী?
তাহারেই পরে মনে কবিতাটিতে ব্যবহৃত সংলাপধর্মী ভাষা, প্রশ্নোত্তর কাঠামো এবং কাব্যিক প্রকাশভঙ্গি একে বাংলা কবিতার একটি মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কবিতায় “ফাল্গুন” ও “বসন্ত” এর তাৎপর্য কী?
“ফাল্গুন” ও “বসন্ত” বাংলা সাহিত্যে নবজীবন, সৌন্দর্য ও সৃষ্টির প্রতীক। এই কবিতায় এগুলি বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিনিধিত্ব করে।
সুফিয়া কামালের কবিতার অনন্যতা কী?
সুফিয়া কামালের কবিতার অনন্যতা হলো নারী দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক চেতনা এবং কাব্যিক সৌন্দর্যের মিশ্রণে মানবিক আবেগ প্রকাশ।
তাহারেই পরে মনে কবিতায় কবি কি বার্তা দিতে চেয়েছেন?
তাহারেই পরে মনে কবিতায় কবি এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে কবি সত্তা কখনও কখনও বাহ্যিক সৌন্দর্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অতীত স্মৃতির জগতে বাস করে এবং সৃষ্টির জন্য এই অন্তর্মুখিতা প্রয়োজন।
কবিতার শেষে “মাঘের সন্ন্যাসী” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
“মাঘের সন্ন্যাসী” বলতে কবি শীতকালীন এক সন্ন্যাসীর প্রতীকী চিত্র বোঝাচ্ছেন, যা অতীতের স্মৃতি ও হারানো সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে।
কবিতায় সংলাপধর্মী কাঠামোর বিশেষত্ব কী?
সংলাপধর্মী কাঠামো কবিতাকে গতিশীল করে, পাঠককে সরাসরি জড়িত করে এবং কবির মানসিক দ্বন্দ্বকে প্রাকৃতিকভাবে উপস্থাপন করে।
তাহারেই পরে মনে কবিতার সাহিত্যিক মূল্য
সুফিয়া কামালের “তাহারেই পরে মনে” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। “হে কবি! নীরব কেন” – এই লাইনটি বাংলা কবিতার ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কবিতাটির মাধ্যমে কবি কবি সত্তার অন্তর্দ্বন্দ্ব, স্মৃতির শক্তি এবং সৃষ্টি প্রক্রিয়ার জটিলতাকে খুব সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছেন। এটি বাংলা সাহিত্যের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য। “তাহারেই পরে মনে” কবিতা পড়ে পাঠক কবি মন, সৃষ্টি প্রক্রিয়া এবং সময়ের স্বরূপ সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারেন।
তাহারেই পরে মনে কবিতার শিক্ষণীয় দিক
- কবি সত্তা ও সৃষ্টি প্রক্রিয়া বোঝা
- স্মৃতির শক্তি ও তার প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা
- প্রকৃতির সাথে মানবিক আবেগের সম্পর্ক নির্ণয়
- সংলাপধর্মী কবিতা রচনার কৌশল
- অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা
- কবির অন্তর্মুখিতা ও বাহ্যিক জগতের সমন্বয়
- ঋতুচক্রের মাধ্যমে মানবিক আবেগ প্রকাশ
কবিতার ভাষাগত ও শৈল্পিক বিশ্লেষণ
“তাহারেই পরে মনে” কবিতায় সুফিয়া কামাল যে শৈল্পিক দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন তা বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছে। কবিতাটির ভাষা অত্যন্ত সঙ্গীতময় ও ছন্দোবদ্ধ। সংলাপধর্মী গঠন কবিতাকে নাটকীয়তা দান করেছে। কবি প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কবির মানসিক জগত উন্মোচন করেছেন। “বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?” – এই প্রশ্নগুলি পাঠকের মনে বসন্তের স্পষ্ট চিত্র তৈরি করে। কবিতায় ব্যবহৃত রূপকগুলি (“কুহেলী উত্তরী”, “মাঘের সন্ন্যাসী”) গভীর অর্থবহ। কবিতাটির ছন্দ ও মাত্রাবিন্যাস বাংলা কবিতার ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
তাহারেই পরে মনে কবিতার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
সুফিয়া কামালের এই কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে নারী কবির দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। কবিতাটি নারী কবির আবেগ প্রকাশের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতাকে প্রতিফলিত করে। বাংলা সাহিত্যে বসন্ত বন্দনার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, কিন্তু সুফিয়া কামাল এই কবিতায় সেই ঐতিহ্যকে ভিন্নমুখী করেছেন। কবি দেখিয়েছেন যে বসন্তের সৌন্দর্য সত্ত্বেও কবি হৃদয় কখনও কখনও অতীত স্মৃতিতে নিমজ্জিত থাকে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ঋতুচক্রের বর্ণনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে সংলাপধর্মী কবিতার ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং নতুন প্রজন্মের কবি ও পাঠকদের অনুপ্রাণিত করেছে।
তাহারেই পরে মনে কবিতার আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা
আধুনিক যুগেও “তাহারেই পরে মনে” কবিতার প্রাসঙ্গিকতা অটুট রয়েছে। আজকের দ্রুতগতির বিশ্বে মানুষ প্রায়ই বাহ্যিক ঘটনাপ্রবাহে এতটাই নিমজ্জিত থাকে যে নিজের অভ্যন্তরীণ জগতকে উপেক্ষা করে। এই কবিতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অন্তর্মুখিতা ও আত্মানুসন্ধান মানবিক সত্তার অপরিহার্য অংশ। কবির নীরবতা ও বিচ্ছিন্নতা আজকের সমাজের অনেক মানুষের অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যায়। কবিতাটি আমাদের শেখায় যে সৃষ্টির জন্য কখনও কখনও বাহ্যিক জগত থেকে কিছুটা দূরত্ব প্রয়োজন। সুফিয়া কামালের এই কবিতা সমকালীন পাঠকদের জন্য একটি আয়না হিসেবে কাজ করে যা তাদের নিজস্ব আবেগ ও স্মৃতির জগতকে প্রতিফলিত করে।
ট্যাগস: তাহারেই পরে মনে, তাহারেই পরে মনে কবিতা, সুফিয়া কামাল, সুফিয়া কামাল কবিতা, বাংলা কবিতা, বাংলা সাহিত্য, কবিতা সংগ্রহ, হে কবি নীরব কেন, ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়, বসন্ত বন্দনা, সংলাপধর্মী কবিতা, কবি সত্তার কবিতা, স্মৃতির কবিতা, সুফিয়া কামালের কবিতা, বাংলা কাব্য, কবিতা বিশ্লেষণ, রোমান্টিক কবিতা, প্রকৃতি কবিতা
“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”
“এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম “কেন কবি আজ
এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?”
কহিল সে সুদূরে চাহিয়া-
“অলখের পাথার বাহিয়া
তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান?
ডেকেছে কি সে আমারে? -শুনি নাই,রাখিনি সন্ধান।”
কহিলাম “ওগো কবি, রচিয়া লহ না আজও গীতি,
বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি-এ মোর মিনতি।”
কহিল সে মৃদু মধুস্বরে-
“নাই হ’ল, না হোক এবারে-
আমার গাহিতে গান! বসন্তরে আনিতে ধরিয়া-
রহেনি,সে ভুলেনি তো, এসেছে তো ফাল্গুন স্মরিয়া।”
কহিলাম “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?
যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।”
কহিল সে পরম হেলায়-
“বৃথা কেন? ফাগুন বেলায়
ফুল কি ফোটে নি শাখে? পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন?
মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নি সে অর্ঘ্য বিরচন?”
“হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?”
কহিলাম “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”
কহিল সে কাছে সরি আসি-
“কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে। তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।”
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। সুফিয়া কামাল।






