কবিতার খাতা
- 22 mins
আমার হৃদয়ের আশেপাশে – আবুল হাসান।
পাহাড়ের পাদদেশ থেকে এল বাণীবাহকের;
কঞ্চির মতন দিল গেড়ে বুকে
বলীয়ান যে সংবাদ তাতে,
মনে হলো,মৃত,তারা মৃত;
মরে গেছে ফল্গু পাখি,
আমার দেশের ঝিঁঝি,জিহ্বার তরঙ্গ ঢেউ
আকুল অঘ্রান!
সত্যি কি মৃত তারা?
সত্যনাহকেরা এল অতঃপর শার্টে গুঁজে
নবঘন শ্যাম ঘুঘু,দোয়েল.শালিক।
মুখে ভরা হর্ষোজ্জল হাসিগুলি তাদের সবার
বসন্তের বর্ণচোরা
কোকিলের কাছে কান নুইয়ে দিয়ে
যখন সাতার দিল বাংলার সমস্ত সীমায়…
ছাতকের কমলাবাগান থেকে,
খাসিয়ার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে
হাওয়া এসে তখনই সে আমাদের
গ্রামের চিকন ভোরে ঝিঁঝির ঝঙ্কার ঝাঁট নিয়ে
“আবুল হাসান আছ’ আবুল হাসান ………
ডাকলেন আমাকেই,আর
তখন সে মিথ্যা মৃত্যু থেকে
অতুলন ঝিঁঝিঁ জিহ্বা,ফল্গু পাখি উঠে এলে আমার নিজের ঘরে
দেখলুম; সত্যি তো,মৃত নয় তারা ……
বরং বাংলার সে প্রিয়তম সবার সচ্ছল অনুভূতি
আশরীরে আগলিয়ে আজও
তাহার দাঁড়িয়ে আছে,আমার হৃদয়ে,আশেপাশে।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। আবুল হাসান।
আমার হৃদয়ের আশেপাশে – আবুল হাসান | বাংলা কবিতা বিশ্লেষণ
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ
আবুল হাসানের “আমার হৃদয়ের আশেপাশে” কবিতাটি বাংলা কবিতার এক অনন্য সৃষ্টি। সত্তর দশকের এই প্রতিভাবান কবির লেখা এই কবিতাটি মৃত্যু ও পুনর্জীবনের, হারানো ও ফিরে পাওয়ার এক গভীর আখ্যান। কবিতাটিতে কবি বাংলার প্রকৃতি, পাখি, ঝিঁঝি, ভাষা ও সংস্কৃতির মৃত্যুসংবাদ শুনে শোকাহত হন, কিন্তু পরে দেখেন সেগুলো সত্যিই মৃত নয়—বরং তার হৃদয়ের আশেপাশেই জীবিত হয়ে আছে। “আমার হৃদয়ের আশেপাশে” কবিতাটি আবুল হাসানের কবিমানসের এক উজ্জ্বল দলিল।
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতার ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট
আবুল হাসান (১৯৪৭-১৯৭৫) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। মাত্র ২৮ বছর বয়সে অকালপ্রয়াত এই কবি বাংলা কবিতাকে দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী কবিতা। “আমার হৃদয়ের আশেপাশে” কবিতাটি তার শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলোর একটি। এই কবিতাটি সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে রচিত, যখন বাংলাদেশ সদ্য স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের মনে এখনও শোক ও হাহাকার। কবিতাটিতে কবি বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোকে—ফল্গু পাখি, ঝিঁঝি, দোয়েল, শালিক, কোকিল—এক নতুন প্রেক্ষাপটে আবিষ্কার করেছেন। আবুল হাসানের কবিতায় সাধারণত নাগরিক জীবনের জটিলতা, প্রেম, বিরহ ও মৃত্যুচেতনা বারবার ফিরে এলেও এই কবিতাটি তার ব্যতিক্রমী এক সৃষ্টি—যেখানে তিনি প্রকৃতি ও সংস্কৃতির চিরন্তন রূপকে ধারণ করেছেন।
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতার শৈলীগত ও কাব্যিক বিশ্লেষণ
“আমার হৃদয়ের আশেপাশে” কবিতাটির ভাষা অত্যন্ত চিত্রময়, প্রতীকধর্মী ও আবেগঘন। আবুল হাসান এখানে বাংলা কবিতার ঐতিহ্যবাহী উপমা ও চিত্রকল্পকে নতুনভাবে ব্যবহার করেছেন। কবিতাটির গঠন তিনটি স্তবকে বিভক্ত, কিন্তু স্তবকগুলোর দৈর্ঘ্য অসম। প্রথম স্তবকে মৃত্যুর বার্তা, দ্বিতীয় স্তবকে মিথ্যার অপসারণ ও সত্যের আগমন, তৃতীয় স্তবকে পুনর্জীবনের আনন্দ। কবিতাটিতে পুনরাবৃত্তির ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। “মৃত” শব্দটি বারবার ফিরে এসেছে—”মৃত, তারা মৃত”, “মরে গেছে ফল্গু পাখি”, “মিথ্যা মৃত্যু থেকে”। এই পুনরাবৃত্তি কবিতাটিকে এক শোকগাথার মর্যাদা দিয়েছে। কবির ভাষায় একটি বিশেষ ধরনের বিষণ্ণ অভিমান ও প্রতিবাদী সুর মিশে আছে।
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতায় প্রতীক ও চিত্রকল্পের ব্যবহার
আবুল হাসান এই কবিতায় কয়েকটি অসাধারণ প্রতীক ও চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন। প্রথম প্রতীকটি হলো ‘ফল্গু পাখি’। ফল্গু নদী যেমন অস্থায়ী, মৌসুমি—তেমনি এই পাখিও হয়তো বাংলার নিজস্ব কোনো পাখি যা কবির কাছে বাংলার সংস্কৃতির প্রতীক। দ্বিতীয় প্রতীকটি হলো ‘ঝিঁঝি’—গ্রামবাংলার নিশীথিনীর ধ্বনি, যা বাংলার প্রাণের প্রতীক। তৃতীয় প্রতীকটি হলো ‘বাণীবাহক’ ও ‘সত্যনাহকেরা’—প্রথমে যারা মৃত্যুর বার্তা আনে, পরে যারা সত্যের বার্তা আনে। চতুর্থ প্রতীকটি হলো ‘শ্যাম ঘুঘু, দোয়েল, শালিক, কোকিল’—এরা সবাই বাংলার নিজস্ব পাখি, বাংলার প্রকৃতির প্রতীক। পঞ্চম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকটি হলো ‘আমার হৃদয়ের আশেপাশে’—এটি কবির নিজস্ব অবস্থান, তার অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে বাংলার সব সাংস্কৃতিক উপাদান চিরকাল জীবিত থাকে।
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতায় মৃত্যু ও পুনর্জীবনের দ্বন্দ্ব
কবিতাটি মৃত্যু ও পুনর্জীবনের এক গভীর দ্বন্দ্বকে ধারণ করে। প্রথম স্তবকে কবি বিশ্বাস করেন যে বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো—ফল্গু পাখি, ঝিঁঝি, জিহ্বার তরঙ্গ ঢেউ—সবই মৃত। তিনি শোকাহত, তিনি ব্যথিত। কিন্তু দ্বিতীয় স্তবকে আসে সত্যনাহকেরা, যারা শার্টে গুঁজে আনে শ্যাম ঘুঘু, দোয়েল, শালিক। তাদের মুখে হর্ষোজ্জ্বল হাসি। তারা বসন্তের বর্ণচোরা কোকিলের কাছে কান নুইয়ে বাংলার সমস্ত সীমায় সাতার দেয়। তৃতীয় স্তবকে কবি নিজেই ডাক শোনেন—”আবুল হাসান আছ’ আবুল হাসান ……… ডাকলেন আমাকেই”। এই ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি দেখেন, সত্যিই মৃত নয় তারা। বরং বাংলার সে প্রিয়তম সবার সচ্ছল অনুভূতি আশরীরে আগলিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে—তার হৃদয়ে, আশেপাশে।
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতায় স্বদেশচেতনা ও ভাষাপ্রেম
কবিতাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে রয়েছে স্বদেশচেতনা ও ভাষাপ্রেমের গভীর প্রকাশ। “আমার দেশের ঝিঁঝি, জিহ্বার তরঙ্গ ঢেউ, আকুল অঘ্রান”—এই লাইনগুলোতে কবি বাংলা ভাষা ও বাংলার প্রকৃতির প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ‘জিহ্বার তরঙ্গ ঢেউ’ বলতে তিনি বাংলা ভাষার সুর, ছন্দ, আবেগকে বুঝিয়েছেন। ‘আকুল অঘ্রান’ বাংলার শরৎকালের ফসল ঘরে তোলার মাস, যা বাংলার কৃষিজীবী সংস্কৃতির প্রতীক। কবি যখন শোনেন এই সব মৃত, তখন তিনি শোকাহত হন। কিন্তু যখন দেখেন এরা আসলে মৃত নয়, তখন তার আনন্দের সীমা থাকে না। এই স্বদেশপ্রেম ও ভাষাপ্রেমই কবিতাটির প্রাণকেন্দ্র।
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতায় আবুল হাসানের নিজস্বতা
আবুল হাসানের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তার চিত্রকল্পনির্ভরতা ও সংগীতময়তা। তিনি কখনো কৃত্রিমতা বা আড়ম্বরতা পছন্দ করতেন না। তার কবিতার শব্দগুলো সাধারণ, দৈনন্দিন জীবনের শব্দ; কিন্তু তিনি সেই সাধারণ শব্দ দিয়েই অসাধারণ অনুভূতি তৈরি করেন। “আমার হৃদয়ের আশেপাশে” কবিতাটিতেও তার এই নিজস্বতার পরিচয় পাওয়া যায়। এখানে কোনো সংস্কৃত শব্দের বাহুল্য নেই, কোনো জটিল দার্শনিকতার ছড়াছড়ি নেই। আছে শুধু সহজ-সরল ভাষায় বলা এক কবি-হৃদয়ের আবেগের গল্প। এই সরলতাই কবিতাটিকে ক্লাসিকে পরিণত করেছে। আরেকটি বিষয় হলো, আবুল হাসানের কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে মৃত্যুচেতনা ও অকালপ্রয়াণের বিষাদ। হয়তো নিজের অকালমৃত্যুর পূর্বাভাস তিনি পেয়েছিলেন। “মৃত, তারা মৃত”—এই শোকোক্তি শুধু বাংলার সংস্কৃতির জন্য নয়, নিজের জন্যও যেন।
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতার ভাষাগত বৈশিষ্ট্য
কবিতাটির ভাষা অত্যন্ত চিত্রময়, সংগীতময় ও আবেগঘন। আবুল হাসান এখানে প্রমিত বাংলার পাশাপাশি কিছু আঞ্চলিক ও কথ্যভাষার প্রয়োগ করেছেন। বাক্যগুলো ছোট, তীব্র ও লক্ষ্যভেদী। প্রতিটি শব্দ যেন সাজানো মুক্তোর মতো। কবিতাটিতে বিরামচিহ্নের ব্যবহার অত্যন্ত শিল্পসম্মত। অনেক জায়গায় তিনি লাইন ভেঙে দিয়েছেন, অনেক জায়গায় স্পেস দিয়ে অর্থের গভীরতা বাড়িয়েছেন। ‘মনে হলো, মৃত, তারা মৃত’—এই পঙ্ক্তিতে তিনটি কমা ব্যবহার করে তিনি শোকের তীব্রতাকে স্তরে স্তরে প্রকাশ করেছেন। ‘ডাকলেন আমাকেই, আর’—এই ‘আর’ শব্দটি একা একটি লাইন, যা পরবর্তী আবিষ্কারের দরজা খুলে দেয়। এই শিল্পিত ভাষাপ্রয়োগই আবুল হাসানকে বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী করে তুলেছে।
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতার সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা
প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে লেখা হলেও কবিতাটি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আজ যখন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নানা সংকটের মুখোমুখি—ইংরেজির আগ্রাসন, হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাব, পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণ—এই কবিতাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো কত মূল্যবান। ফল্গু পাখি, ঝিঁঝি, দোয়েল, শালিক, কোকিল—এরা শুধু পাখি নয়, এরা আমাদের সংস্কৃতির প্রতীক। কবিতাটি আমাদের শেখায়, এই সংস্কৃতি কখনো মৃত নয়; এটি আমাদের হৃদয়ের আশেপাশেই চিরকাল জীবিত। নতুন প্রজন্মের জন্য এই কবিতাটি তাই এক অনুপ্রেরণা, এক বার্তা—নিজের শিকড়কে চিনতে হবে, নিজের সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে হবে।
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতার লেখক কে?
“আমার হৃদয়ের আশেপাশে” কবিতার লেখক বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি আবুল হাসান। তিনি ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর মাত্র ২৮ বছর বয়সে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: ‘রাজা যায় রাজা আসে’, ‘পৃথক পালঙ্ক’, ‘যেতে পারি কিন্তু কেন যাব’, ‘বিষাদ বৃক্ষ’, ‘আমি ও ভালোবাসা’ প্রভৃতি। তিনি মরণোত্তর বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।
আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
“আমার হৃদয়ের আশেপাশে” কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোর মৃত্যু ও পুনর্জীবনের আখ্যান। কবি প্রথমে শোনেন বাংলার পাখি, ঝিঁঝি, ভাষা—সব মৃত। তিনি শোকাহত হন। পরে সত্যনাহকেরা আসে, তারা নিয়ে আসে বাংলার নিজস্ব পাখি, প্রকৃতি, বসন্ত। কবি তখন বুঝতে পারেন, এরা আসলে মৃত নয়, বরং তার হৃদয়ের আশেপাশেই জীবিত হয়ে আছে। কবিতাটি হারানো ও ফিরে পাওয়ার, শোক ও আনন্দের এক গভীর কাব্যিক দলিল।
“ফল্গু পাখি” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
“ফল্গু পাখি” সম্ভবত বাংলার কোনো নিজস্ব পাখি নয়, এটি কবির সৃষ্ট একটি প্রতীক। ফল্গু নদী যেমন অস্থায়ী, মৌসুমি—তেমনি এই পাখিও বাংলার কোনো হারিয়ে যাওয়া, বিলুপ্তপ্রায় সাংস্কৃতিক উপাদানের প্রতীক। এটি বাংলার নিজস্বতা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে কবি ব্যবহার করেছেন।
“সত্যনাহকেরা” বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
“সত্যনাহকেরা” হলো সেই বার্তাবাহক, যারা সত্যের সংবাদ আনে। প্রথম স্তবকে আসে ‘বাণীবাহক’, যারা মৃত্যুর সংবাদ আনে। দ্বিতীয় স্তবকে আসে ‘সত্যনাহকেরা’, যারা শার্টে গুঁজে আনে শ্যাম ঘুঘু, দোয়েল, শালিক—জীবনের সংবাদ, পুনর্জীবনের সংবাদ। এরা কবির কাছে আশার বার্তাবাহক, সত্যের উন্মোচনকারী।
“আমার হৃদয়ের আশেপাশে” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
“আমার হৃদয়ের আশেপাশে” বলতে কবি তার নিজস্ব অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দুকে বুঝিয়েছেন। এটি তার অনুভূতির জগৎ, তার স্মৃতির ভুবন, তার চেতনার গহীন অঞ্চল। বাংলার যত সাংস্কৃতিক সম্পদ, যত ঐতিহ্য, যত নিজস্বতা—সব কিছুই তার হৃদয়ের আশেপাশে চিরকাল জীবিত হয়ে আছে। এটি কবির কাছে এক নিরাপদ আশ্রয়, এক চিরন্তন ঠিকানা।
কবিতাটি আধুনিক পাঠকের জন্য কীভাবে প্রাসঙ্গিক?
আজকের বিশ্বায়নের যুগে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ। তরুণ প্রজন্ম বিদেশি সংস্কৃতিতে বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে, নিজের শিকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই সময়ে “আমার হৃদয়ের আশেপাশে” কবিতাটি আধুনিক পাঠককে শেখায়—আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি কখনো মৃত নয়, তা আমাদের হৃদয়ের আশেপাশেই জীবিত আছে। শুধু তাকে চিনতে হবে, তাকে অনুভব করতে হবে, তাকে ধারণ করতে হবে। কবিতাটি তাই আজকের যুবসমাজের জন্য এক অনন্য প্রেরণা।
ট্যাগস: আমার হৃদয়ের আশেপাশে, আবুল হাসান, আবুল হাসানের কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, বাংলাদেশের কবিতা, সত্তর দশকের কবিতা, প্রকৃতির কবিতা, স্বদেশচেতনার কবিতা, আবুল হাসানের শ্রেষ্ঠ কবিতা, আমার হৃদয়ের আশেপাশে কবিতা বিশ্লেষণ






