কবিতার খাতা
- 23 mins
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে – শক্তি চট্টোপাধ্যায়।
দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত
কাল সারারাত তার পাখা ঝ’রে পড়েছে বাতাসে
চরের বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতন মনে হয়
মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হ’তো।
সারারাত ধ’রে তার পাখা-খসা শব্দ আসে কানে
মনে হয় দূর হ’তে নক্ষত্রের তামাম উইল
উলোট-পালোট হ’য়ে পড়ে আছে আমার বাগানে।
এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন।
পৃথিবীর সমস্ত রঙ্গিন
পর্দাগুলি নিয়ে যাবো, নিয়ে যাবো শেফালির চারা
গোলাবাড়ি থেকে কিছু দূরে রবে সূর্যমুখী-পাড়া
এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন।
যদি কোনো পৃথিবীর কিশলয়ে বেসে থাকো ভালো
যদি কোনো আন্তরিক পর্যটনে জানালার আলো
দেখে যেতে চেয়ে থাকো,তাহাদের ঘরের ভিতরে–
আমাকে যাবার আগে বলো তা-ও,নেবো সঙ্গে ক’রে।
ভুলে যেয়োনাক’ তুমি আমাদের উঠানের কাছে
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে।।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। শক্তি চট্টোপাধ্যায়।
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে – শক্তি চট্টোপাধ্যায় | অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে কবিতা | শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা | বাংলা কবিতা
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে: শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের নক্ষত্র, চাঁদ ও চিরন্তনতার অসাধারণ কাব্যভাষা
শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের “অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে” কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি, যা নক্ষত্র, চাঁদ, প্রেম ও চিরন্তনতার এক গভীর কাব্যিক অন্বেষণ। “দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত / কাল সারারাত তার পাখা ঝ’রে পড়েছে বাতাসে / চরের বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতন মনে হয়” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে এক কল্পনার জগৎ, যেখানে নক্ষত্র পুড়ে যায়, পাখা ঝরে পড়ে, আর চাঁদ পড়ে থাকে অনন্ত কুয়ার জলে। শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৩-১৯৯৫) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, যিনি ‘হাংরি জেনারেশন’ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর কবিতায় প্রেম, কামনা, মৃত্যু, অস্তিত্ব ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। “অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা চিরন্তনতার এক অসাধারণ চিত্র।
শক্তি চট্টোপাধ্যায়: হাংরি জেনারেশনের কিংবদন্তি কবি
শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৩-১৯৯৫) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি। তিনি ১৯৩৩ সালের ২৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘হাংরি জেনারেশন’ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য’ (১৯৬৩) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ধর্মে আছো জিরাফও’, ‘মহাবিশ্বের বাড়ি’, ‘যেতে পারি কিন্তু কেন যাব’, ‘আমি ও তুমি ও বৃষ্টি’, ‘সবিতা’, ‘অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে’ প্রভৃতি। তাঁর কবিতায় প্রেম, কামনা, মৃত্যু, অস্তিত্ব ও মানবিক সম্পর্কের গভীর প্রকাশ ঘটে। তিনি ১৯৯৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। “অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে” তাঁর একটি বহুপঠিত কবিতা যা চিরন্তনতার এক অসাধারণ চিত্র।
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে কবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ
কবিতার শিরোনামের তাৎপর্য
“অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে” শিরোনামটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘অনন্ত কুয়া’ — অন্তহীন কূপ, অসীম গভীরতা। সেই কূপের জলে চাঁদ পড়ে আছে। চাঁদ আকাশে, কিন্তু তার প্রতিবিম্ব পড়ে আছে কূপের জলে। এটি এক চিরন্তন চিত্র — আকাশ ও মাটির মিলন, অসীম ও সসীমের মিলন। শিরোনামেই কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন — এই কবিতা চিরন্তনতার, অনন্তের, মিলনের কবিতা।
প্রথম স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত / কাল সারারাত তার পাখা ঝ’রে পড়েছে বাতাসে / চরের বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতন মনে হয় / মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হ’তো। / সারারাত ধ’রে তার পাখা-খসা শব্দ আসে কানে / মনে হয় দূর হ’তে নক্ষত্রের তামাম উইল / উলোট-পালোট হ’য়ে পড়ে আছে আমার বাগানে।” প্রথম স্তবকে কবি নক্ষত্রের পতনের চিত্র এঁকেছেন। তিনি বলেছেন — দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত। কাল সারারাত তার পাখা ঝরে পড়েছে বাতাসে। চরের বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতো মনে হয়। মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হতো। সারারাত ধরে তার পাখা-খসা শব্দ আসে কানে। মনে হয় দূর থেকে নক্ষত্রের তামাম উইল উলোট-পালোট হয়ে পড়ে আছে আমার বাগানে।
‘দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
দেয়ালি — দীপাবলি, আলোর উৎসব। সেই আলো মেখে নক্ষত্র পুড়ে গেছে। অর্থাৎ আলোর আধিক্যে নক্ষত্র ধ্বংস হয়েছে। এটি একটি অসাধারণ চিত্র — আলো থেকেই ধ্বংস।
‘কাল সারারাত তার পাখা ঝ’রে পড়েছে বাতাসে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
নক্ষত্রের পাখা ঝরে পড়েছে — নক্ষত্রের কি পাখা আছে? এটি কল্পনার চিত্র। নক্ষত্রকে পাখির মতো কল্পনা করা হয়েছে, যার পাখা ঝরে পড়ে।
‘চরের বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতন মনে হয়’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
চিকিচিকি মাছ — ছোট, চিকচিকে মাছ। পুড়ে যাওয়া নক্ষত্র বালিতে সেই মাছের মতো দেখাচ্ছে। এটি এক বিস্ময়কর চিত্র — আকাশের তারা মাটিতে মাছ হয়ে পড়ে আছে।
‘মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হ’তো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
নক্ষত্রটি যদি হৃদয়ের আলো পেত, তাহলে উজ্জ্বল হতো। অর্থাৎ প্রকৃত আলো, প্রেমের আলো, হৃদয়ের আলো — সেটাই আসল আলো। বাইরের আলো নক্ষত্রকে পুড়িয়ে দিয়েছে।
‘মনে হয় দূর হ’তে নক্ষত্রের তামাম উইল / উলোট-পালোট হ’য়ে পড়ে আছে আমার বাগানে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘তামাম উইল’ — সম্পূর্ণ ইচ্ছে? নাকি উইল শব্দের অন্য অর্থ? নক্ষত্রের সব ইচ্ছে উলোট-পালোট হয়ে তাঁর বাগানে পড়ে আছে। আকাশের তারার সব স্বপ্ন, সব আকাঙ্ক্ষা তাঁর বাগানে ছড়িয়ে আছে।
দ্বিতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন। / পৃথিবীর সমস্ত রঙ্গিন / পর্দাগুলি নিয়ে যাবো, নিয়ে যাবো শেফালির চারা / গোলাবাড়ি থেকে কিছু দূরে রবে সূর্যমুখী-পাড়া / এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন।” দ্বিতীয় স্তবকে কবি প্রিয়তমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন — এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন। পৃথিবীর সমস্ত রঙ্গিন পর্দাগুলি নিয়ে যাবো। নিয়ে যাবো শেফালির চারা। গোলাবাড়ি থেকে কিছু দূরে রবে সূর্যমুখী-পাড়া। এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন।
‘নক্ষত্র-খামারে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
নক্ষত্র-খামার — যেখানে নক্ষত্র চাষ করা হয়? এটি একটি কল্পিত স্থান, যেখানে নক্ষত্ররা থাকে, বেড়ে ওঠে। কবি প্রিয়তমাকে সেখানে নিয়ে যেতে চান।
‘নবান্নের দিন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
নবান্ন — নতুন অন্ন, নতুন ফসল তোলার উৎসব। নবান্নের দিন একটি পবিত্র, আনন্দের দিন। কবি সেই দিনেই তাঁকে নিয়ে যেতে চান নক্ষত্র-খামারে।
‘পৃথিবীর সমস্ত রঙ্গিন পর্দাগুলি নিয়ে যাবো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
পৃথিবীর সব রঙিন পর্দা — সম্ভবত সব সৌন্দর্য, সব জাঁকজমক। তিনি সব কিছু নিয়ে যেতে চান।
‘শেফালির চারা’, ‘সূর্যমুখী-পাড়া’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
শেফালি ও সূর্যমুখী ফুল। তিনি শেফালির চারা নিয়ে যাবেন, আর সূর্যমুখী-পাড়া থাকবে গোলাবাড়ি থেকে কিছু দূরে। এটি একটি কল্পিত, স্বপ্নিল জগতের সৃষ্টি।
তৃতীয় স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“যদি কোনো পৃথিবীর কিশলয়ে বেসে থাকো ভালো / যদি কোনো আন্তরিক পর্যটনে জানালার আলো / দেখে যেতে চেয়ে থাকো, তাহাদের ঘরের ভিতরে– / আমাকে যাবার আগে বলো তা-ও,নেবো সঙ্গে ক’রে।” তৃতীয় স্তবকে কবি প্রিয়তমাকে শেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন — যদি কোনো পৃথিবীর কিশলয়ে (পাতায়) বাস করে থাকো ভালো, যদি কোনো আন্তরিক পর্যটনে জানালার আলো দেখে যেতে চেয়ে থাকো তাহাদের ঘরের ভিতরে — আমাকে যাবার আগে বলো তা-ও, নেবো সঙ্গে করে।
‘কিশলয়ে বেসে থাকো ভালো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কিশলয় — নতুন পাতা, কচি পাতা। যদি কোনো পৃথিবীর কচি পাতায় থাকতে ভালোবাসো — অর্থাৎ যদি পৃথিবীর কোনো সাধারণ জায়গায়, প্রকৃতির কোনো কোণে থাকতে ভালোবাসো।
‘আন্তরিক পর্যটনে জানালার আলো / দেখে যেতে চেয়ে থাকো, তাহাদের ঘরের ভিতরে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
যদি কোনো আন্তরিক ভ্রমণে সাধারণ মানুষের ঘরের জানালার আলো দেখতে চাও — অর্থাৎ যদি পৃথিবীর সাধারণ জীবন, সাধারণ মানুষকে দেখতে চাও।
‘আমাকে যাবার আগে বলো তা-ও,নেবো সঙ্গে ক’রে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
যাবার আগে বলো — আমিও তা সঙ্গে করে নেব। তিনি প্রিয়তমার সব ইচ্ছে পূরণ করতে চান, সব কিছু সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান।
চতুর্থ স্তবকের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
“ভুলে যেয়োনাক’ তুমি আমাদের উঠানের কাছে / অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে।।” চতুর্থ স্তবকে কবি শেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন — ভুলে যেয়ো না তুমি আমাদের উঠানের কাছে, অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে।
‘আমাদের উঠানের কাছে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উঠান — ঘরের আঙিনা, ব্যক্তিগত জায়গা, শৈশবের স্মৃতি। তিনি চান প্রিয়জন যেন তাঁর শেকড়, তাঁর স্মৃতি ভুলে না যায়।
‘অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য
এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শিরোনাম ও কেন্দ্রীয় বার্তা। অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে — এটি এক চিরন্তন চিত্র। চাঁদ আকাশে, কিন্তু তার প্রতিবিম্ব পড়ে আছে কূপের জলে। এই চিত্রটি মনে করিয়ে দেয় — সব কিছু চলে যায়, কিন্তু কিছু চিরন্তন থেকে যায়। কবি চান প্রিয়জন যেন এই চিরন্তন চিত্রটি মনে রাখে।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য
“অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে” কবিতাটি নক্ষত্র, চাঁদ, প্রেম ও চিরন্তনতার এক অসাধারণ চিত্র। কবি প্রথমে নক্ষত্রের পতনের কথা বলেছেন — দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র পুড়ে গেছে, তার পাখা ঝরে পড়েছে বাতাসে। বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতো দেখাচ্ছে। মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হতো। তার পাখা-খসা শব্দ কানে আসে। মনে হয় নক্ষত্রের সব ইচ্ছে উলোট-পালোট হয়ে পড়ে আছে বাগানে। তারপর তিনি প্রিয়তমাকে নিয়ে যেতে চান নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন। পৃথিবীর সব রঙ্গিন পর্দা, শেফালির চারা, সূর্যমুখী-পাড়া — সব নিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন — যদি পৃথিবীর কোনো কিশলয়ে থাকতে ভালোবাসো, যদি কোনো আন্তরিক পর্যটনে জানালার আলো দেখতে চাও — আমাকে যাবার আগে বলো, তা-ও সঙ্গে নেব। শেষে তিনি অনুরোধ করেন — ভুলে যেয়ো না আমাদের উঠানের কাছে, অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে।
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে কবিতা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে কবিতার লেখক কে?
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে কবিতার লেখক শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৩-১৯৯৫)। তিনি বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, ‘হাংরি জেনারেশন’ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য’ (১৯৬৩) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়।
প্রশ্ন ২: অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো নক্ষত্র, প্রেম ও চিরন্তনতার অন্বেষণ। কবি নক্ষত্রের পতনের চিত্র এঁকেছেন, তারপর প্রিয়তমাকে নিয়ে যেতে চান নক্ষত্র-খামারে। শেষে তিনি অনুরোধ করেন — যেন প্রিয়জন ভুলে না যায় আমাদের উঠানের কাছে, অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে।
প্রশ্ন ৩: ‘দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি নক্ষত্রের পতনের চিত্র এঁকেছেন। দেয়ালি (দীপাবলি) আলোর উৎসব। সেই আলো মেখে নক্ষত্র পুড়ে গেছে। অর্থাৎ আলোর আধিক্যে নক্ষত্র ধ্বংস হয়েছে। এটি একটি অসাধারণ চিত্র — আলো থেকেই ধ্বংস।
প্রশ্ন ৪: ‘মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হ’তো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হ’তো’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি প্রকৃত আলোর কথা বলেছেন। নক্ষত্রটি যদি হৃদয়ের আলো, প্রেমের আলো পেত, তাহলে উজ্জ্বল হতো। বাইরের আলো তাকে পুড়িয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন ৫: ‘এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন’ — এই পঙ্ক্তিতে কবি প্রিয়তমাকে নিয়ে একটি কল্পিত জগতে যাওয়ার কথা বলেছেন। নক্ষত্র-খামার — যেখানে নক্ষত্র চাষ করা হয়। নবান্নের দিন — নতুন অন্নের উৎসবের দিন। তিনি তাঁকে সেখানে নিয়ে যেতে চান।
প্রশ্ন ৬: ‘অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে’ — শেষ পঙ্ক্তির তাৎপর্য কী?
‘অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে’ — এই পঙ্ক্তিটি কবিতার শিরোনাম ও কেন্দ্রীয় বার্তা। অনন্ত কুয়া — অন্তহীন কূপ, অসীম গভীরতা। সেই কূপের জলে চাঁদ পড়ে আছে। এটি এক চিরন্তন চিত্র — আকাশ ও মাটির মিলন, অসীম ও সসীমের মিলন। কবি চান প্রিয়জন যেন এই চিরন্তন চিত্রটি মনে রাখে।
প্রশ্ন ৭: শক্তি চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৩-১৯৯৫) বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি কবি, ‘হাংরি জেনারেশন’ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য’ (১৯৬৩) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় প্রেম, কামনা, মৃত্যু ও অস্তিত্বের গভীর প্রকাশ ঘটে।
ট্যাগস: অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা, অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে কবিতা, বাংলা কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, হাংরি জেনারেশন, নক্ষত্রের কবিতা, চাঁদের কবিতা





