সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম
কিনে এনেছিলাম আকাশী রঙের বিলিতি হাওয়াই চিঠি
সে চিঠির অক্ষরে অক্ষরে লেখা যেত
কেন তোমাকে এখনো চিঠি লেখার কথা ভাবি
লেখা যেত
আমাদের উঠোনে কামিনী ফুলগাছে
এবার বর্ষায় ফুলের ছড়াছড়ি
তুমি আরেকটু কাছে থাকলেই
বৃষ্টিভেজা বাতাসে সে সৌরভ তোমার কাছে পৌঁছতো
আর তোমার উপহার দেওয়া সেই স্বচ্ছন্দ বেড়ালছানা
এখন এক মাথামোটা অতিকায় হুলো
সারা রাত তার হুঙ্কারে পাড়ার লোকেরা অস্থির।
তোমাকে জানানো যেত,
এবছর কলকাতায় গ্রীষ্ম বড় দীর্ঘ ছিল
এখন পর্যন্ত বর্ষার হাবভাবও খুব সুবিধের নয়।
এদিকে কয়েকমাস আগে
নিউ মার্কেট আর্দ্ধেকের বেশী পুড়ে ছাই।
আর দুনম্বর হাওড়া ব্রীজ শেষ হওয়ার আগেই
যেকোনো দুনম্বরি জিনিসের মত ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ছে।
এদিকে এর মধ্যে আবার নির্বাচন এসে গেল,
অথচ কে যে কোন দলে, কার পক্ষে তা আজও জানা গেলনা।
কিন্তু এসব তোমাকে কেন জানাবো?
এসব খবরে তোমার এখন কোনো প্রয়োজননেই।
অথচ এর থেকেও কি যেন তোমাকে জানানোর ছিল,
কিছু একটা আছে, কিন্তু সেটা যে ঠিক কি
পরিষ্কার করে আমি নিজেও বুঝতে পারছিনা।
টেবিলের একপাশে কাঁচের কাগজচাপার নীচে
ধুলোয়, বাতাসে বিবর্ণ হয়ে আসছে হাওয়াই চিঠি।
তার গায়ে ডাকের ছাপের চেয়ে একটু বড়,
অসতর্ক চায়ের পেয়ালার গোল ছাপ,
পাখার হাওয়ায় সারাদিন, সারারাত ফড় ফড় করে ডানা ঝাপটায়
সেই ঠিকানাবিহীন রঙিন ফাঁকা চিঠি।
অথচ তোমার কাছে
তার উড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
আরো কবিতা পড়তে ক্লিক করুন। তারাপদ রায়।
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম – তারাপদ রায় | বাংলা কবিতা বিশ্লেষণ
তারাপদ রায় রচিত “সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম” বাংলা সাহিত্যের একটি মর্মস্পর্শী কবিতা, যেখানে কবি তারাপদ রায় যোগাযোগ ও সম্পর্কের জটিলতা প্রকাশ করেছেন। কবিতাটির প্রথম লাইন “সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম” পাঠককে সাথে সাথেই এক গভীর আবেগিক জগতে নিয়ে যায়। তারাপদ রায়ের এই কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতার সারাংশ
তারাপদ রায়ের “সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম” কবিতায় কবি তারাপদ রায় অসম্পূর্ণ যোগাযোগ ও অপ্রকাশিত অনুভূতির গল্প বলেছেন। কবি তারাপদ রায় দেখিয়েছেন কীভাবে একজন মানুষ প্রিয়জনকে সব কথা জানাতে চায় কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয় না। তারাপদ রায়ের এই কবিতায় কলকাতার নাগরিক জীবন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা ফুটে উঠেছে।
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতার রূপক বিশ্লেষণ
তারাপদ রায়ের “সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম” কবিতায় “আকাশী রঙের বিলিতি হাওয়াই চিঠি” অপ্রকাশিত অনুভূতির প্রতীক। “বেড়ালছানা” থেকে “অতিকায় হুলো” সময়ের পরিবর্তনের রূপক। “ঠিকানাবিহীন রঙিন ফাঁকা চিঠি” অসম্পূর্ণ যোগাযোগের প্রতীক। তারাপদ রায়ের রূপক ব্যবহার খুবই অর্থবহ।
তারাপদ রায়ের কবিতার উদ্দেশ্য
তারাপদ রায়ের “সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম” কবিতায় মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক সম্পর্কের জটিলতা ও অপ্রকাশিত অনুভূতির গভীরতা তুলে ধরা। তারাপদ রায় এই কবিতার মাধ্যমে পাঠকদের মনে যোগাযোগের গুরুত্ব ও সম্পর্কের সূক্ষ্মতা বোঝাতে চেয়েছেন।
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতার আবেগ
তারাপদ রায়ের “সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম” কবিতায় গভীর হতাশা, অসম্পূর্ণতা ও অপ্রকাশিত ভালোবাসার ব্যাকুলতা ফুটে উঠেছে। কবি তারাপদ রায়ের ভাষায় “অথচ তোমার কাছে তার উড়ে যাওয়ার কথা ছিল” – এই লাইনের মধ্যে যে গভীর অনুশোচনা ও হতাশা রয়েছে, তা পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে।
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতা FAQ
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতার রচয়িতা কে?
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতার রচয়িতা তারাপদ রায়। তারাপদ রায়ের সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতাটি খুবই জনপ্রিয়।
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতার প্রথম লাইন কী?
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতার প্রথম লাইন “সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম”। তারাপদ রায়ের এই প্রথম লাইনটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতার মূল বিষয় কী?
সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতার মূল বিষয় হলো অসম্পূর্ণ যোগাযোগ ও অপ্রকাশিত অনুভূতি। তারাপদ রায় এই কবিতায় সম্পর্কের জটিলতা ও নাগরিক জীবনের একাকীত্ব প্রকাশ করেছেন।
তারাপদ রায়ের কবিতার বৈশিষ্ট্য কী?
তারাপদ রায়ের কবিতায় সাধারণত নাগরিক জীবন, মানবিক সম্পর্ক ও সমকালীন বিষয়ের প্রকাশ ঘটে। তারাপদ রায়ের ভাষায় সরলতা ও গভীরতার uncommon combination দেখা যায়।
তারাপদ রায়ের সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা। তারাপদ রায়ের কবিতায় কলকাতার নাগরিক জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতায় তারাপদ রায়ের লেখনী খুবই শক্তিশালী। তারাপদ রায়ের এই কবিতা পাঠকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
© Kobitarkhata.com – কবি: তারাপদ রায় | সব কথা তোমাকে জানাবো ভেবেছিলাম কবিতা সংগ্রহ