কবিতার খাতা
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি – তসলিমা নাসরিন।
প্রিয় রুদ্র,
প্রযত্নেঃ আকাশ,
তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুড়ে থাকো? তুমি আকাশে উড়ে বেড়াও? তুলোর মতো, পাখির মতো? তুমি এই জগত্সংসার ছেড়ে আকাশে চলে গেছো। তুমি আসলে বেঁচেই গেছো রুদ্র। আচ্ছা, তোমার কি পাখি হয়ে উড়ে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না? তোমার সেই ইন্দিরা রোডের বাড়িতে, আবার সেই নীলক্ষেত, শাহবাগ, পরীবাগ, লালবাগ চষে বেড়াতে? ইচ্ছে তোমার হয় না এ আমি বিশ্বাস করি না, ইচ্ছে ঠিকই হয়, পারো না। অথচ এক সময় যা ইচ্ছে হতো তোমার তাই করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারারাত না ঘুমিয়ে গল্প করতে – করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারাদিন পথে পথে হাটতে – হাটতে। কে তোমাকে বাধা দিতো? জীবন তোমার হাতের মুঠোয় ছিলো। এই জীবন নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলেছো। আমার ভেবে অবাক লাগে, জীবন এখন তোমার হাতের মুঠোয় নেই। ওরা তোমাকে ট্রাকে উঠিয়ে মিঠেখালি রেখে এলো, তুমি প্রতিবাদ করতে পারোনি।
আচ্ছা, তোমার লালবাগের সেই প্রেমিকাটির খবর কি, দীর্ঘ বছর প্রেম করেছিলে তোমার যে নেলী খালার সাথে? তার উদ্দেশ্যে তোমার দিস্তা দিস্তা প্রেমের কবিতা দেখে আমি কি ভীষণ কেঁদেছিলাম একদিন! তুমি আর কারো সঙ্গে প্রেম করছো, এ আমার সইতো না। কি অবুঝ বালিকা ছিলাম! তাই কি? যেন আমাকেই তোমার ভালোবাসতে হবে। যেন আমরা দু’জন জন্মেছি দু’জনের জন্য। যেদিন ট্রাকে করে তোমাকে নিয়ে গেলো বাড়ি থেকে, আমার খুব দম বন্ধ লাগছিলো। ঢাকা শহরটিকে এতো ফাঁকা আর কখনো লাগেনি। বুকের মধ্যে আমার এতো হাহাকারও আর কখনো জমেনি। আমি ঢাকা ছেড়ে সেদিন চলে গিয়েছিলাম ময়মনসিংহে। আমার ঘরে তোমার বাক্সভর্তি চিঠিগুলো হাতে নিয়ে জন্মের কান্না কেঁদেছিলাম। আমাদের বিচ্ছেদ ছিলো চার বছরের। এতো বছর পরও তুমি কী গভীর করে বুকের মধ্যে রয়ে গিয়েছিলে! সেদিন আমি টের পেয়েছি।
আমার বড়ো হাসি পায় দেখে, এখন তোমার শ’য়ে শ’য়ে বন্ধু বেরোচ্ছে। তারা তখন কোথায় ছিলো? যখন পয়সার অভাবে তুমি একটি সিঙ্গারা খেয়ে দুপুর কাটিয়েছো। আমি না হয় তোমার বন্ধু নই, তোমাকে ছেড়ে চলে এসেছিলাম বলে। এই যে এখন তোমার নামে মেলা হয়, তোমার চেনা এক আমিই বোধ হয় অনুপস্থিত থাকি মেলায়। যারা এখন রুদ্র রুদ্র বলে মাতম করে বুঝিনা তারা তখন কোথায় ছিলো?
শেষদিকে তুমি শিমুল নামের এক মেয়েকে ভালোবাসতে। বিয়ের কথাও হচ্ছিলো। আমাকে শিমুলের সব গল্প একদিন করলে। শুনে … তুমি বোঝোনি আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। এই ভেবে যে, তুমি কি অনায়াসে প্রেম করছো! তার গল্প শোনাচ্ছো ! ঠিক এইরকম অনুভব একসময় আমার জন্য ছিলো তোমার! আজ আরেকজনের জন্য তোমার অস্থিরতা। নির্ঘুম রাত কাটাবার গল্প শুনে আমার কান্না পায় না বলো? তুমি শিমুলকে নিয়ে কি কি কবিতা লিখলে তা দিব্যি বলে গেলে! আমাকে আবার জিজ্ঞেসও করলে, কেমন হয়েছে। আমি বললাম, খুব ভালো। শিমুল মেয়েটিকে আমি কোনোদিন দেখিনি, তুমি তাকে ভালোবাসো, যখন নিজেই বললে, তখন আমার কষ্টটাকে বুঝতে দেইনি। তোমাকে ছেড়ে চলে গেছি ঠিকই কিন্তু আর কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। ভালোবাসা যে যাকে তাকে বিলোবার জিনিস নয়।
আকাশের সঙ্গে কতো কথা হয় রোজ! কষ্টের কথা, সুখের কথা। একদিন আকাশভরা জোত্স্নায় গা ভেসে যাচ্ছিলো আমাদের। তুমি দু চারটি কষ্টের কথা বলে নিজের লেখা একটি গান শুনিয়েছিলে। “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও”। মংলায় বসে গানটি লিখেছিলে। মনে মনে তুমি কার চিঠি চেয়েছিলে? আমার? নেলী খালার? শিমুলের? অনেক দিন ইচ্ছে তোমাকে একটা চিঠি লিখি। একটা সময় ছিলো তোমাকে প্রতিদিন চিঠি লিখতাম। তুমিও লিখতে প্রতিদিন। সেবার আরমানিটোলার বাড়িতে বসে দিলে আকাশের ঠিকানা। তুমি পাবে তো এই চিঠি? জীবন এবং জগতের তৃষ্ণা তো মানুষের কখনো মেটে না, তবু মানুষ আর বাঁচে ক’দিন বলো? দিন তো ফুরোয়। আমার কি দিন ফুরোচ্ছে না? তুমি ভালো থেকো। আমি ভালো নেই।
ইতি,
সকাল
পুনশ্চঃ আমাকে সকাল বলে ডাকতে তুমি। কতোকাল ঐ ডাক শুনি না। তুমি কি আকাশ থেকে সকাল, আমার সকাল বলে মাঝে মধ্যে ডাকো? নাকি আমি ভুল শুনি?
আরো চিঠ পড়তে এখানে ক্লিক করুন। তাসলিমা নাসরিন।
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি – তসলিমা নাসরিন | রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি কবিতা তসলিমা নাসরিন | তসলিমা নাসরিনের কবিতা | আধুনিক বাংলা কবিতা | প্রেম ও স্মৃতির কবিতা | রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে উৎসর্গিত কবিতা
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি: তসলিমা নাসরিনের প্রেম, স্মৃতি ও বিচ্ছেদের অসাধারণ কাব্যভাষা
তসলিমা নাসরিনের “রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি” আধুনিক বাংলা কবিতার এক অনন্য ও হৃদয়গ্রাহী স্মৃতিচারণমূলক কবিতা। “প্রিয় রুদ্র, / প্রযত্নেঃ আকাশ, / তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুড়ে থাকো? তুমি আকাশে উড়ে বেড়াও? তুলোর মতো, পাখির মতো? তুমি এই জগৎসংসার ছেড়ে আকাশে চলে গেছো। তুমি আসলে বেঁচেই গেছো রুদ্র।” — এই পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতাটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত করে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুর পর তসলিমা নাসরিনের গভীর বেদনা, তাদের প্রেমের স্মৃতি, বিচ্ছেদের কষ্ট, আকাশের ঠিকানায় চিঠি পাঠানোর আহ্বান, এবং শেষ পর্যন্ত ‘সকাল’ ডাকে ফিরে পাওয়ার আশার এক গভীর ও বহুমাত্রিক কাব্যচিত্র। তসলিমা নাসরিন (জন্ম: ২৫ আগস্ট ১৯৬২) একজন বাংলাদেশী-সুইডিশ লেখিকা, কবি, ঔপন্যাসিক ও মানবাধিকার কর্মী। তিনি নারীর অধিকার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক। তাদের প্রেম ও সম্পর্ক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। “রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি” তসলিমা নাসরিনের সেই স্বকীয় কাব্যভাষার এক অসাধারণ শিল্পরূপ — যেখানে তিনি প্রিয় কবির মৃত্যুর পর তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা, স্মৃতি, বিচ্ছেদের কষ্ট, এবং আকাশের ঠিকানায় চিঠি পাঠানোর আকাঙ্ক্ষাকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
তসলিমা নাসরিন: বিদ্রোহ, প্রেম ও স্মৃতির কবি
তসলিমা নাসরিন ১৯৬২ সালের ২৫ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি লেখালেখি শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নিজস্ব ভাষাভঙ্গি ও বিষয়বৈচিত্র্যের জন্য আলাদা স্থান তৈরি করেন।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অবশেষ’ (১৯৮৬), ‘নির্বাচিত কবিতা’ (১৯৯০), ‘দুঃখপোষা মেয়ে’ (১৯৯৫), ‘দেহতত্ত্ব’ (২০০০), ‘যদি মানুষ হয়ে না পারি, পাখি হয়েও ফিরব একদিন’ (২০০৫), ‘রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি’ (২০১০) ইত্যাদি। তাঁর উপন্যাস ‘লজ্জা’ (১৯৯৩) বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি নারীর অধিকার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখার জন্য বাংলাদেশে নিপীড়নের শিকার হন এবং বর্তমানে সুইডেনে নির্বাসিত জীবনে আছেন।
তসলিমা নাসরিনের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নারীর শরীর ও মননের স্বাধীনতা, সামাজিক বন্ধনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, প্রেমের গভীর উপলব্ধি, স্মৃতিচারণের সততা, এবং সরল-প্রাঞ্জল ভাষায় জটিল আবেগ প্রকাশের দক্ষতা। ‘রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি’ সেই ধারার একটি অসাধারণ উদাহরণ — যেখানে তিনি প্রিয় কবির মৃত্যুর পর তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা, স্মৃতি, বিচ্ছেদের কষ্ট, এবং আকাশের ঠিকানায় চিঠি পাঠানোর আকাঙ্ক্ষাকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি: শিরোনামের তাৎপর্য ও কবিতার পটভূমি
শিরোনাম ‘রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একটি চিঠি — যেখানে তসলিমা নাসরিন মৃত কবির সঙ্গে কথা বলছেন। রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক। তিনি ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তসলিমা নাসরিন ও রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর প্রেম ও সম্পর্ক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তসলিমা নাসরিন শুরুতে বলছেন — প্রিয় রুদ্র, প্রযত্নে: আকাশ। তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুড়ে থাকো? তুমি আকাশে উড়ে বেড়াও? তুলোর মতো, পাখির মতো? তুমি এই জগৎসংসার ছেড়ে আকাশে চলে গেছো। তুমি আসলে বেঁচেই গেছো রুদ্র।
আচ্ছা, তোমার কি পাখি হয়ে উড়ে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না? তোমার সেই ইন্দিরা রোডের বাড়িতে, আবার সেই নীলক্ষেত, শাহবাগ, পরীবাগ, লালবাগ চষে বেড়াতে? ইচ্ছে তোমার হয় না এ আমি বিশ্বাস করি না, ইচ্ছে ঠিকই হয়, পারো না। অথচ এক সময় যা ইচ্ছে হতো তোমার তাই করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারারাত না ঘুমিয়ে গল্প করতে – করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারাদিন পথে পথে হাঁটতে – হাঁটতে। কে তোমাকে বাধা দিতো? জীবন তোমার হাতের মুঠোয় ছিলো। এই জীবন নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলেছো। আমার ভেবে অবাক লাগে, জীবন এখন তোমার হাতের মুঠোয় নেই। ওরা তোমাকে ট্রাকে উঠিয়ে মিঠেখালি রেখে এলো, তুমি প্রতিবাদ করতে পারোনি।
আচ্ছা, তোমার লালবাগের সেই প্রেমিকাটির খবর কি, দীর্ঘ বছর প্রেম করেছিলে তোমার যে নেলী খালার সাথে? তার উদ্দেশ্যে তোমার দিস্তা দিস্তা প্রেমের কবিতা দেখে আমি কি ভীষণ কেঁদেছিলাম একদিন! তুমি আর কারো সঙ্গে প্রেম করছো, এ আমার সইতো না। কি অবুঝ বালিকা ছিলাম! তাই কি? যেন আমাকেই তোমার ভালোবাসতে হবে। যেন আমরা দু’জন জন্মেছি দু’জনের জন্য। যেদিন ট্রাকে করে তোমাকে নিয়ে গেলো বাড়ি থেকে, আমার খুব দম বন্ধ লাগছিলো। ঢাকা শহরটিকে এতো ফাঁকা আর কখনো লাগেনি। বুকের মধ্যে আমার এতো হাহাকারও আর কখনো জমেনি। আমি ঢাকা ছেড়ে সেদিন চলে গিয়েছিলাম ময়মনসিংহে। আমার ঘরে তোমার বাক্সভর্তি চিঠিগুলো হাতে নিয়ে জন্মের কান্না কেঁদেছিলাম। আমাদের বিচ্ছেদ ছিলো চার বছরের। এতো বছর পরও তুমি কী গভীর করে বুকের মধ্যে রয়ে গিয়েছিলে! সেদিন আমি টের পেয়েছি।
আমার বড়ো হাসি পায় দেখে, এখন তোমার শ’য়ে শ’য়ে বন্ধু বেরোচ্ছে। তারা তখন কোথায় ছিলো? যখন পয়সার অভাবে তুমি একটি সিঙ্গারা খেয়ে দুপুর কাটিয়েছো। আমি না হয় তোমার বন্ধু নই, তোমাকে ছেড়ে চলে এসেছিলাম বলে। এই যে এখন তোমার নামে মেলা হয়, তোমার চেনা এক আমিই বোধ হয় অনুপস্থিত থাকি মেলায়। যারা এখন রুদ্র রুদ্র বলে মাতম করে বুঝিনা তারা তখন কোথায় ছিলো?
শেষদিকে তুমি শিমুল নামের এক মেয়েকে ভালোবাসতে। বিয়ের কথাও হচ্ছিলো। আমাকে শিমুলের সব গল্প একদিন করলে। শুনে … তুমি বোঝোনি আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। এই ভেবে যে, তুমি কি অনায়াসে প্রেম করছো! তার গল্প শোনাচ্ছো ! ঠিক এইরকম অনুভব একসময় আমার জন্য ছিলো তোমার! আজ আরেকজনের জন্য তোমার অস্থিরতা। নির্ঘুম রাত কাটাবার গল্প শুনে আমার কান্না পায় না বলো? তুমি শিমুলকে নিয়ে কি কি কবিতা লিখলে তা দিব্যি বলে গেলে! আমাকে আবার জিজ্ঞেসও করলে, কেমন হয়েছে। আমি বললাম, খুব ভালো। শিমুল মেয়েটিকে আমি কোনোদিন দেখিনি, তুমি তাকে ভালোবাসো, যখন নিজেই বললে, তখন আমার কষ্টটাকে বুঝতে দেইনি। তোমাকে ছেড়ে চলে গেছি ঠিকই কিন্তু আর কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। ভালোবাসা যে যাকে তাকে বিলোবার জিনিস নয়।
আকাশের সঙ্গে কতো কথা হয় রোজ! কষ্টের কথা, সুখের কথা। একদিন আকাশভরা জোত্স্নায় গা ভেসে যাচ্ছিলো আমাদের। তুমি দু চারটি কষ্টের কথা বলে নিজের লেখা একটি গান শুনিয়েছিলে। “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও”। মংলায় বসে গানটি লিখেছিলে। মনে মনে তুমি কার চিঠি চেয়েছিলে? আমার? নেলী খালার? শিমুলের? অনেক দিন ইচ্ছে তোমাকে একটা চিঠি লিখি। একটা সময় ছিলো তোমাকে প্রতিদিন চিঠি লিখতাম। তুমিও লিখতে প্রতিদিন। সেবার আরমানিটোলার বাড়িতে বসে দিলে আকাশের ঠিকানা। তুমি পাবে তো এই চিঠি? জীবন এবং জগতের তৃষ্ণা তো মানুষের কখনো মেটে না, তবু মানুষ আর বাঁচে ক’দিন বলো? দিন তো ফুরোয়। আমার কি দিন ফুরোচ্ছে না? তুমি ভালো থেকো। আমি ভালো নেই।
ইতি, সকাল
পুনশ্চঃ আমাকে সকাল বলে ডাকতে তুমি। কতোকাল ঐ ডাক শুনি না। তুমি কি আকাশ থেকে সকাল, আমার সকাল বলে মাঝে মধ্যে ডাকো? নাকি আমি ভুল শুনি?
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি: স্তবকভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ
প্রথম অংশ: আকাশের ঠিকানায় চিঠি ও রুদ্রের মৃত্যু
“প্রিয় রুদ্র, / প্রযত্নেঃ আকাশ, / تুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুড়ে থাকো? তুমি আকাশে উড়ে বেড়াও? তুলোর মতো, পাখির মতো? তুমি এই জগত্সংসার ছেড়ে আকাশে চলে গেছো। তুমি আসলে বেঁচেই গেছো রুদ্র।”
প্রথম অংশে আকাশের ঠিকানায় চিঠি ও রুদ্রের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। ‘প্রিয় রুদ্র’ — প্রিয় কবিকে সম্বোধন। ‘প্রযত্নেঃ আকাশ’ — প্রযত্নে: আকাশ (আকাশের ঠিকানা)। ‘তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে’ — তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। ‘তুমি কি এখন আকাশ জুড়ে থাকো? তুমি আকাশে উড়ে বেড়াও? তুলোর মতো, পাখির মতো?’ — তুমি কি এখন আকাশ জুড়ে থাকো? তুমি আকাশে উড়ে বেড়াও? তুলোর মতো, পাখির মতো? ‘তুমি এই জগত্সংসার ছেড়ে আকাশে চলে গেছো। তুমি আসলে বেঁচেই গেছো রুদ্র’ — তুমি এই জগৎসংসার ছেড়ে আকাশে চলে গেছো। তুমি আসলে বেঁচেই গেছো রুদ্র।
দ্বিতীয় অংশ: ফিরে আসার ইচ্ছা ও শৈশবের স্মৃতি
“আচ্ছা, তোমার কি পাখি হয়ে উড়ে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না? তোমার সেই ইন্দিরা রোডের বাড়িতে, আবার সেই নীলক্ষেত, শাহবাগ, পরীবাগ, লালবাগ চষে বেড়াতে? ইচ্ছে তোমার হয় না এ আমি বিশ্বাস করি না, ইচ্ছে ঠিকই হয়, পারো না। অথচ এক সময় যা ইচ্ছে হতো তোমার তাই করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারারাত না ঘুমিয়ে গল্প করতে – করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারাদিন পথে পথে হাটতে – হাটতে। কে তোমাকে বাধা দিতো? জীবন তোমার হাতের মুঠোয় ছিলো। এই জীবন নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলেছো। আমার ভেবে অবাক লাগে, জীবন এখন তোমার হাতের মুঠোয় নেই। ওরা তোমাকে ট্রাকে উঠিয়ে মিঠেখালি রেখে এলো, তুমি প্রতিবাদ করতে পারোনি।”
দ্বিতীয় অংশে ফিরে আসার ইচ্ছা ও শৈশবের স্মৃতির কথা বলা হয়েছে। ‘আচ্ছা, তোমার কি পাখি হয়ে উড়ে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না?’ — আচ্ছা, তোমার কি পাখি হয়ে উড়ে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না? ‘তোমার সেই ইন্দিরা রোডের বাড়িতে, আবার সেই নীলক্ষেত, শাহবাগ, পরীবাগ, লালবাগ চষে বেড়াতে?’ — তোমার সেই ইন্দিরা রোডের বাড়িতে, আবার সেই নীলক্ষেত, শাহবাগ, পরীবাগ, লালবাগ চষে বেড়াতে? ‘ইচ্ছে তোমার হয় না এ আমি বিশ্বাস করি না, ইচ্ছে ঠিকই হয়, পারো না’ — ইচ্ছে তোমার হয় না এ আমি বিশ্বাস করি না, ইচ্ছে ঠিকই হয়, পারো না। ‘অথচ এক সময় যা ইচ্ছে হতো তোমার তাই করতে’ — অথচ এক সময় যা ইচ্ছে হতো তোমার তাই করতে। ‘ইচ্ছে যদি হতো সারারাত না ঘুমিয়ে গল্প করতে – করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারাদিন পথে পথে হাটতে – হাটতে। কে তোমাকে বাধা দিতো?’ — ইচ্ছে যদি হতো সারারাত না ঘুমিয়ে গল্প করতে – করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারাদিন পথে পথে হাঁটতে – হাঁটতে। কে তোমাকে বাধা দিতো? ‘জীবন তোমার হাতের মুঠোয় ছিলো। এই জীবন নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলেছো’ — জীবন তোমার হাতের মুঠোয় ছিলো। এই জীবন নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলেছো। ‘আমার ভেবে অবাক লাগে, জীবন এখন তোমার হাতের মুঠোয় নেই। ওরা তোমাকে ট্রাকে উঠিয়ে মিঠেখালি রেখে এলো, তুমি প্রতিবাদ করতে পারোনি’ — আমার ভেবে অবাক লাগে, জীবন এখন তোমার হাতের মুঠোয় নেই। ওরা তোমাকে ট্রাকে উঠিয়ে মিঠেখালি (সমাধিস্থল) রেখে এলো, তুমি প্রতিবাদ করতে পারোনি।
তৃতীয় অংশ: নেলী খালার প্রেম ও তসলিমার ঈর্ষা
“আচ্ছা, তোমার লালবাগের সেই প্রেমিকাটির খবর কি, দীর্ঘ বছর প্রেম করেছিলে তোমার যে নেলী খালার সাথে? তার উদ্দেশ্যে তোমার দিস্তা দিস্তা প্রেমের কবিতা দেখে আমি কি ভীষণ কেঁদেছিলাম একদিন! তুমি আর কারো সঙ্গে প্রেম করছো, এ আমার সইতো না। কি অবুঝ বালিকা ছিলাম! তাই কি? যেন আমাকেই তোমার ভালোবাসতে হবে। যেন আমরা দু’জন জন্মেছি দু’জনের জন্য। যেদিন ট্রাকে করে তোমাকে নিয়ে গেলো বাড়ি থেকে, আমার খুব দম বন্ধ লাগছিলো। ঢাকা শহরটিকে এতো ফাঁকা আর কখনো লাগেনি। বুকের মধ্যে আমার এতো হাহাকারও আর কখনো জমেনি। আমি ঢাকা ছেড়ে সেদিন চলে গিয়েছিলাম ময়মনসিংহে। আমার ঘরে তোমার বাক্সভর্তি চিঠিগুলো হাতে নিয়ে জন্মের কান্না কেঁদেছিলাম। আমাদের বিচ্ছেদ ছিলো চার বছরের। এতো বছর পরও তুমি কী গভীর করে বুকের মধ্যে রয়ে গিয়েছিলে! সেদিন আমি টের পেয়েছি।”
তৃতীয় অংশে নেলী খালার প্রেম ও তসলিমার ঈর্ষার কথা বলা হয়েছে। ‘আচ্ছা, তোমার লালবাগের সেই প্রেমিকাটির খবর কি, দীর্ঘ বছর প্রেম করেছিলে তোমার যে নেলী খালার সাথে?’ — আচ্ছা, তোমার লালবাগের সেই প্রেমিকাটির (নেলী খালার) খবর কি, দীর্ঘ বছর প্রেম করেছিলে যে নেলী খালার সাথে? ‘তার উদ্দেশ্যে তোমার দিস্তা দিস্তা প্রেমের কবিতা দেখে আমি কি ভীষণ কেঁদেছিলাম একদিন!’ — তার উদ্দেশ্যে তোমার দিস্তা দিস্তা প্রেমের কবিতা দেখে আমি কি ভীষণ কেঁদেছিলাম একদিন! ‘তুমি আর কারো সঙ্গে প্রেম করছো, এ আমার সইতো না’ — তুমি আর কারো সঙ্গে প্রেম করছো, এ আমার সইতো না। ‘কি অবুঝ বালিকা ছিলাম! তাই কি? যেন আমাকেই তোমার ভালোবাসতে হবে। যেন আমরা দু’জন জন্মেছি দু’জনের জন্য’ — কি অবুঝ বালিকা ছিলাম! তাই কি? যেন আমাকেই তোমার ভালোবাসতে হবে। যেন আমরা দু’জন জন্মেছি দু’জনের জন্য। ‘যেদিন ট্রাকে করে তোমাকে নিয়ে গেলো বাড়ি থেকে, আমার খুব দম বন্ধ লাগছিলো। ঢাকা শহরটিকে এতো ফাঁকা আর কখনো লাগেনি। বুকের মধ্যে আমার এতো হাহাকারও আর কখনো জমেনি’ — যেদিন ট্রাকে করে তোমাকে নিয়ে গেলো বাড়ি থেকে, আমার খুব দম বন্ধ লাগছিলো। ঢাকা শহরটিকে এতো ফাঁকা আর কখনো লাগেনি। বুকের মধ্যে আমার এতো হাহাকারও আর কখনো জমেনি। ‘আমি ঢাকা ছেড়ে সেদিন চলে গিয়েছিলাম ময়মনসিংহে। আমার ঘরে তোমার বাক্সভর্তি চিঠিগুলো হাতে নিয়ে জন্মের কান্না কেঁদেছিলাম। আমাদের বিচ্ছেদ ছিলো চার বছরের। এতো বছর পরও তুমি কী গভীর করে বুকের মধ্যে রয়ে গিয়েছিলে! সেদিন আমি টের পেয়েছি’ — আমি ঢাকা ছেড়ে সেদিন চলে গিয়েছিলাম ময়মনসিংহে। আমার ঘরে তোমার বাক্সভর্তি চিঠিগুলো হাতে নিয়ে জন্মের কান্না কেঁদেছিলাম। আমাদের বিচ্ছেদ ছিলো চার বছরের। এতো বছর পরও তুমি কী গভীর করে বুকের মধ্যে রয়ে গিয়েছিলে! সেদিন আমি টের পেয়েছি।
চতুর্থ অংশ: মৃত্যুর পরের বন্ধু ও শিমুলের প্রেম
“আমার বড়ো হাসি পায় দেখে, এখন তোমার শ’য়ে শ’য়ে বন্ধু বেরোচ্ছে। তারা তখন কোথায় ছিলো? যখন পয়সার অভাবে তুমি একটি সিঙ্গারা খেয়ে দুপুর কাটিয়েছো। আমি না হয় তোমার বন্ধু নই, তোমাকে ছেড়ে চলে এসেছিলাম বলে। এই যে এখন তোমার নামে মেলা হয়, তোমার চেনা এক আমিই বোধ হয় অনুপস্থিত থাকি মেলায়। যারা এখন রুদ্র রুদ্র বলে মাতম করে বুঝিনা তারা তখন কোথায় ছিলো? / শেষদিকে তুমি শিমুল নামের এক মেয়েকে ভালোবাসতে। বিয়ের কথাও হচ্ছিলো। আমাকে শিমুলের সব গল্প একদিন করলে। শুনে … তুমি বোঝোনি আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। এই ভেবে যে, তুমি কি অনায়াসে প্রেম করছো! তার গল্প শোনাচ্ছো ! ঠিক এইরকম অনুভব একসময় আমার জন্য ছিলো তোমার! আজ আরেকজনের জন্য তোমার অস্থিরতা। নির্ঘুম রাত কাটাবার গল্প শুনে আমার কান্না পায় না বলো? তুমি শিমুলকে নিয়ে কি কি কবিতা লিখলে তা দিব্যি বলে গেলে! আমাকে আবার জিজ্ঞেসও করলে, কেমন হয়েছে। আমি বললাম, খুব ভালো। শিমুল মেয়েটিকে আমি কোনোদিন দেখিনি, তুমি তাকে ভালোবাসো, যখন নিজেই বললে, তখন আমার কষ্টটাকে বুঝতে দেইনি। তোমাকে ছেড়ে চলে গেছি ঠিকই কিন্তু আর কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। ভালোবাসা যে যাকে তাকে বিলোবার জিনিস নয়।”
চতুর্থ অংশে মৃত্যুর পরের বন্ধু ও শিমুলের প্রেমের কথা বলা হয়েছে। ‘আমার বড়ো হাসি পায় দেখে, এখন তোমার শ’য়ে শ’য়ে বন্ধু বেরোচ্ছে। তারা তখন কোথায় ছিলো? যখন পয়সার অভাবে তুমি একটি সিঙ্গারা খেয়ে দুপুর কাটিয়েছো’ — আমার বড়ো হাসি পায় দেখে, এখন তোমার শ’য়ে শ’য়ে বন্ধু বেরোচ্ছে। তারা তখন কোথায় ছিলো? যখন পয়সার অভাবে তুমি একটি সিঙ্গারা খেয়ে দুপুর কাটিয়েছো। ‘আমি না হয় তোমার বন্ধু নই, তোমাকে ছেড়ে চলে এসেছিলাম বলে। এই যে এখন তোমার নামে মেলা হয়, তোমার চেনা এক আমিই বোধ হয় অনুপস্থিত থাকি মেলায়। যারা এখন রুদ্র রুদ্র বলে মাতম করে বুঝিনা তারা তখন কোথায় ছিলো?’ — আমি না হয় তোমার বন্ধু নই, তোমাকে ছেড়ে চলে এসেছিলাম বলে। এই যে এখন তোমার নামে মেলা হয়, তোমার চেনা এক আমিই বোধ হয় অনুপস্থিত থাকি মেলায়। যারা এখন রুদ্র রুদ্র বলে মাতম করে বুঝিনা তারা তখন কোথায় ছিলো? ‘শেষদিকে তুমি শিমুল নামের এক মেয়েকে ভালোবাসতে। বিয়ের কথাও হচ্ছিলো। আমাকে শিমুলের সব গল্প একদিন করলে। শুনে … তুমি বোঝোনি আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। এই ভেবে যে, তুমি কি অনায়াসে প্রেম করছো! তার গল্প শোনাচ্ছো ! ঠিক এইরকম অনুভব একসময় আমার জন্য ছিলো তোমার! আজ আরেকজনের জন্য তোমার অস্থিরতা। নির্ঘুম রাত কাটাবার গল্প শুনে আমার কান্না পায় না বলো?’ — শেষদিকে তুমি শিমুল নামের এক মেয়েকে ভালোবাসতে। বিয়ের কথাও হচ্ছিলো। আমাকে শিমুলের সব গল্প একদিন করলে। শুনে … তুমি বোঝোনি আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। এই ভেবে যে, তুমি কি অনায়াসে প্রেম করছো! তার গল্প শোনাচ্ছো! ঠিক এইরকম অনুভব একসময় আমার জন্য ছিলো তোমার! আজ আরেকজনের জন্য তোমার অস্থিরতা। নির্ঘুম রাত কাটাবার গল্প শুনে আমার কান্না পায় না বলো? ‘তুমি শিমুলকে নিয়ে কি কি কবিতা লিখলে তা দিব্যি বলে গেলে! আমাকে আবার জিজ্ঞেসও করলে, কেমন হয়েছে। আমি বললাম, খুব ভালো। শিমুল মেয়েটিকে আমি কোনোদিন দেখিনি, তুমি তাকে ভালোবাসো, যখন নিজেই বললে, তখন আমার কষ্টটাকে বুঝতে দেইনি। তোমাকে ছেড়ে চলে গেছি ঠিকই কিন্তু আর কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। ভালোবাসা যে যাকে তাকে বিলোবার জিনিস নয়’ — তুমি শিমুলকে নিয়ে কি কি কবিতা লিখলে তা দিব্যি বলে গেলে! আমাকে আবার জিজ্ঞেসও করলে, কেমন হয়েছে। আমি বললাম, খুব ভালো। শিমুল মেয়েটিকে আমি কোনোদিন দেখিনি, তুমি তাকে ভালোবাসো, যখন নিজেই বললে, তখন আমার কষ্টটাকে বুঝতে দেইনি। তোমাকে ছেড়ে চলে গেছি ঠিকই কিন্তু আর কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। ভালোবাসা যে যাকে তাকে বিলোবার জিনিস নয়।
পঞ্চম অংশ: আকাশের সঙ্গে কথা ও গানের স্মৃতি
“আকাশের সঙ্গে কতো কথা হয় রোজ! কষ্টের কথা, সুখের কথা। একদিন আকাশভরা জোত্স্নায় গা ভেসে যাচ্ছিলো আমাদের। তুমি দু চারটি কষ্টের কথা বলে নিজের লেখা একটি গান শুনিয়েছিলে। “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও”। মংলায় বসে গানটি লিখেছিলে। মনে মনে তুমি কার চিঠি চেয়েছিলে? আমার? নেলী খালার? শিমুলের? অনেক দিন ইচ্ছে তোমাকে একটা চিঠি লিখি। একটা সময় ছিলো তোমাকে প্রতিদিন চিঠি লিখতাম। তুমিও লিখতে প্রতিদিন। সেবার আরমানিটোলার বাড়িতে বসে দিলে আকাশের ঠিকানা। তুমি পাবে তো এই চিঠি? জীবন এবং জগতের তৃষ্ণা তো মানুষের কখনো মেটে না, তবু মানুষ আর বাঁচে ক’দিন বলো? দিন তো ফুরোয়। আমার কি দিন ফুরোচ্ছে না? তুমি ভালো থেকো। আমি ভালো নেই।”
পঞ্চম অংশে আকাশের সঙ্গে কথা ও গানের স্মৃতির কথা বলা হয়েছে। ‘আকাশের সঙ্গে কতো কথা হয় রোজ! কষ্টের কথা, সুখের কথা’ — আকাশের সঙ্গে কতো কথা হয় রোজ! কষ্টের কথা, সুখের কথা। ‘একদিন আকাশভরা জোত্স্নায় গা ভেসে যাচ্ছিলো আমাদের। তুমি দু চারটি কষ্টের কথা বলে নিজের লেখা একটি গান শুনিয়েছিলে। “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও”। মংলায় বসে গানটি লিখেছিলে’ — একদিন আকাশভরা জোৎস্নায় গা ভেসে যাচ্ছিলো আমাদের। তুমি দু-চারটি কষ্টের কথা বলে নিজের লেখা একটি গান শুনিয়েছিলে। “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও”। মংলায় বসে গানটি লিখেছিলে। ‘মনে মনে তুমি কার চিঠি চেয়েছিলে? আমার? নেলী খালার? শিমুলের?’ — মনে মনে তুমি কার চিঠি চেয়েছিলে? আমার? নেলী খালার? শিমুলের? ‘অনেক দিন ইচ্ছে তোমাকে একটা চিঠি লিখি। একটা সময় ছিলো তোমাকে প্রতিদিন চিঠি লিখতাম। তুমিও লিখতে প্রতিদিন। সেবার আরমানিটোলার বাড়িতে বসে দিলে আকাশের ঠিকানা। তুমি পাবে তো এই চিঠি?’ — অনেক দিন ইচ্ছে তোমাকে একটা চিঠি লিখি। একটা সময় ছিলো তোমাকে প্রতিদিন চিঠি লিখতাম। তুমিও লিখতে প্রতিদিন। সেবার আরমানিটোলার বাড়িতে বসে দিলে আকাশের ঠিকানা। তুমি পাবে তো এই চিঠি? ‘জীবন এবং জগতের তৃষ্ণা তো মানুষের কখনো মেটে না, তবু মানুষ আর বাঁচে ক’দিন বলো? দিন তো ফুরোয়। আমার কি দিন ফুরোচ্ছে না? তুমি ভালো থেকো। আমি ভালো নেই’ — জীবন এবং জগতের তৃষ্ণা তো মানুষের কখনো মেটে না, তবু মানুষ আর বাঁচে ক’দিন বলো? দিন তো ফুরোয়। আমার কি দিন ফুরোচ্ছে না? তুমি ভালো থেকো। আমি ভালো নেই।
ষষ্ঠ অংশ: ইতি ও পুনশ্চ — সকাল ডাক
“ইতি, / سকাল / পুনশ্চঃ আমাকে সকাল বলে ডাকতে তুমি। কতোকাল ঐ ডাক শুনি না। تুমি কি আকাশ থেকে সকাল, আমার সকাল বলে মাঝে মধ্যে ডাকো? ناكي আমি ভুল শুনি?”
ষষ্ঠ অংশে ইতি ও পুনশ্চ — সকাল ডাকের কথা বলা হয়েছে। ‘ইতি, সকাল’ — ইতি, সকাল (তসলিমার ডাকনাম)। ‘পুনশ্চঃ আমাকে সকাল বলে ডাকতে তুমি। কতোকাল ঐ ডাক শুনি না। তুমি কি আকাশ থেকে সকাল, আমার সকাল বলে মাঝে মধ্যে ডাকো? নাকি আমি ভুল শুনি?’ — পুনশ্চ: আমাকে সকাল বলে ডাকতে তুমি। কতকাল ঐ ডাক শুনি না। তুমি কি আকাশ থেকে সকাল, আমার সকাল বলে মাঝে মধ্যে ডাকো? নাকি আমি ভুল শুনি?
কবিতার গঠনশৈলী, ছন্দ ও শিল্পরূপ
কবিতাটি ছয়টি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে আকাশের ঠিকানায় চিঠি ও রুদ্রের মৃত্যু, দ্বিতীয় অংশে ফিরে আসার ইচ্ছা ও শৈশবের স্মৃতি, তৃতীয় অংশে নেলী খালার প্রেম ও তসলিমার ঈর্ষা, চতুর্থ অংশে মৃত্যুর পরের বন্ধু ও শিমুলের প্রেম, পঞ্চম অংশে আকাশের সঙ্গে কথা ও গানের স্মৃতি, ষষ্ঠ অংশে ইতি ও পুনশ্চ — সকাল ডাক।
ভাষা সরল, প্রাঞ্জল, কথ্যরীতির কাছাকাছি, কিন্তু গভীর আবেগে পরিপূর্ণ। তিনি ব্যবহার করেছেন — ‘প্রিয় রুদ্র’, ‘প্রযত্নেঃ আকাশ’, ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি’, ‘আকাশ জুড়ে থাকো’, ‘তুলোর মতো, পাখির মতো’, ‘বেঁচেই গেছো’, ‘পাখি হয়ে উড়ে ফিরে আসতে ইচ্ছে’, ‘ইন্দিরা রোডের বাড়ি’, ‘নীলক্ষেত, শাহবাগ, পরীবাগ, লালবাগ’, ‘জীবন হাতের মুঠোয়’, ‘ট্রাকে উঠিয়ে মিঠেখালি রেখে এলো’, ‘নেলী খালা’, ‘দিস্তা দিস্তা প্রেমের কবিতা’, ‘অবুঝ বালিকা’, ‘দম বন্ধ লাগছিলো’, ‘হাহাকার’, ‘বাক্সভর্তি চিঠি’, ‘জন্মের কান্না’, ‘চার বছরের বিচ্ছেদ’, ‘শ’য়ে শ’য়ে বন্ধু’, ‘একটি সিঙ্গারা খেয়ে দুপুর’, ‘তোমার নামে মেলা’, ‘রুদ্র রুদ্র বলে মাতম’, ‘শিমুল’, ‘অনায়াসে প্রেম’, ‘নির্ঘুম রাত কাটাবার গল্প’, ‘ভালোবাসা বিলোবার জিনিস নয়’, ‘আকাশভরা জোৎস্না’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও’, ‘মংলা’, ‘আরমানিটোলার বাড়ি’, ‘জীবন ও জগতের তৃষ্ণা’, ‘দিন তো ফুরোয়’, ‘ইতি, সকাল’, ‘সকাল বলে ডাকতে তুমি’।
প্রতীক ব্যবহারে তিনি দক্ষ। ‘আকাশ’ — মৃত্যুর পরের জগৎ, রুদ্রের নতুন ঠিকানার প্রতীক। ‘তুলোর মতো, পাখির মতো’ — আত্মার হালকাতা, স্বাধীনতার প্রতীক। ‘ট্রাকে উঠিয়ে মিঠেখালি’ — মৃত্যু, শেষযাত্রার প্রতীক। ‘নেলী খালা’ — রুদ্রের অন্য প্রেমের প্রতীক। ‘শিমুল’ — রুদ্রের শেষ প্রেমের প্রতীক। ‘আকাশভরা জোৎস্না’ — প্রেমের স্মৃতির প্রতীক। ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও’ — বিচ্ছেদ, বিদায়ের প্রতীক। ‘সকাল’ — তসলিমার ডাকনাম, নতুন শুরুর প্রতীক।
পুনরাবৃত্তি শৈলী কবিতার সুর তৈরি করেছে। ‘আকাশ’ — বারবার পুনরাবৃত্তি রুদ্রের নতুন ঠিকানা নির্দেশ করে। ‘সকাল’ — শেষের পুনরাবৃত্তি ফিরে পাওয়ার আশার প্রতীক।
শেষের ‘তুমি কি আকাশ থেকে সকাল, আমার সকাল বলে মাঝে মধ্যে ডাকো? নাকি আমি ভুল শুনি?’ — এটি অত্যন্ত শক্তিশালী সমাপ্তি। মৃত প্রিয়জনের ডাক শোনার আশা, ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
কবিতার সামগ্রিক তাৎপর্য ও দার্শনিক মাত্রা
“রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি” তসলিমা নাসরিনের এক অসাধারণ সৃষ্টি। তিনি মৃত কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে চিঠি লিখছেন। তিনি বলছেন — প্রিয় রুদ্র, তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুড়ে থাকো? তুমি আকাশে উড়ে বেড়াও? তুলোর মতো, পাখির মতো? তুমি আসলে বেঁচেই গেছো রুদ্র।
আচ্ছা, তোমার কি পাখি হয়ে উড়ে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না? তোমার সেই ইন্দিরা রোডের বাড়িতে, আবার সেই নীলক্ষেত, শাহবাগ, পরীবাগ, লালবাগ চষে বেড়াতে? ইচ্ছে তোমার হয় না এ আমি বিশ্বাস করি না। অথচ এক সময় যা ইচ্ছে হতো তোমার তাই করতে। জীবন তোমার হাতের মুঠোয় ছিলো। ওরা তোমাকে ট্রাকে উঠিয়ে মিঠেখালি রেখে এলো, তুমি প্রতিবাদ করতে পারোনি।
তোমার লালবাগের সেই নেলী খালার সাথে প্রেমের কথা মনে পড়ে? তার উদ্দেশ্যে তোমার দিস্তা দিস্তা প্রেমের কবিতা দেখে আমি কেঁদেছিলাম। তুমি আর কারো সঙ্গে প্রেম করছো, এ আমার সইতো না। আমরা দু’জন জন্মেছি দু’জনের জন্য। যেদিন ট্রাকে করে তোমাকে নিয়ে গেলো, আমার দম বন্ধ লাগছিলো। বাক্সভর্তি চিঠি হাতে নিয়ে জন্মের কান্না কেঁদেছিলাম।
এখন তোমার শ’য়ে শ’য়ে বন্ধু বেরোচ্ছে। তারা তখন কোথায় ছিলো? যখন পয়সার অভাবে তুমি একটি সিঙ্গারা খেয়ে দুপুর কাটিয়েছো। তোমার নামে মেলা হয়, তোমার চেনা এক আমিই অনুপস্থিত থাকি মেলায়। শেষদিকে তুমি শিমুল নামের এক মেয়েকে ভালোবাসতে। তুমি শিমুলের সব গল্প করলে। শুনে আমার কষ্ট হচ্ছিলো। তুমি অনায়াসে প্রেম করছো! তার গল্প শোনাচ্ছো! আমি বললাম, খুব ভালো। তোমাকে ছেড়ে চলে গেছি ঠিকই কিন্তু আর কাউকে ভালোবাসতে পারিনি।
আকাশের সঙ্গে কতো কথা হয় রোজ! একদিন আকাশভরা জোৎস্নায় গা ভেসে যাচ্ছিলো আমাদের। তুমি নিজের লেখা একটি গান শুনিয়েছিলে — “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও”। মংলায় বসে গানটি লিখেছিলে। মনে মনে তুমি কার চিঠি চেয়েছিলে? আমার? নেলী খালার? শিমুলের? অনেক দিন ইচ্ছে তোমাকে একটা চিঠি লিখি। তুমি পাবে তো এই চিঠি?
তুমি ভালো থেকো। আমি ভালো নেই। ইতি, সকাল। পুনশ্চ: আমাকে সকাল বলে ডাকতে তুমি। কতকাল ঐ ডাক শুনি না। তুমি কি আকাশ থেকে সকাল, আমার সকাল বলে মাঝে মধ্যে ডাকো? নাকি আমি ভুল শুনি?
এই কবিতা আমাদের শেখায় — মৃত্যু বিচ্ছেদ ঘটায়, কিন্তু স্মৃতি মুছে দেয় না। প্রিয় মানুষের জন্য চিঠি লেখা, তার সঙ্গে কথা বলা, তার স্মৃতিতে বেঁচে থাকা — এই সবই ভালোবাসার অমরত্বের চিহ্ন। এটি প্রেম, স্মৃতি, বিচ্ছেদ, এবং মৃত্যুর পরেও প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সংযোগ রাখার আকাঙ্ক্ষার এক অসাধারণ কাব্যচিত্র।
তসলিমা নাসরিনের কবিতায় প্রেম, স্মৃতি ও রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
তসলিমা নাসরিনের কবিতায় প্রেম, স্মৃতি ও রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ একটি পুনরাবৃত্ত বিষয়। তিনি ‘রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি’ কবিতায় মৃত কবির প্রতি গভীর ভালোবাসা, তাদের প্রেমের স্মৃতি, বিচ্ছেদের কষ্ট, এবং আকাশের ঠিকানায় চিঠি পাঠানোর আকাঙ্ক্ষাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন — কীভাবে মৃত্যুর পরও প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সংযোগ রাখার আকাঙ্ক্ষা, কীভাবে স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস, কীভাবে মৃতের প্রতি চিঠি লেখার এক অনন্য সাহিত্যিক রূপ।
শিক্ষামূলক গুরুত্ব ও পাঠ্যক্রমিক স্থান
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা সাহিত্যের উচ্চতর পাঠ্যক্রমে তসলিমা নাসরিনের ‘রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত থাকার যোগ্য। এই কবিতাটি শিক্ষার্থীদের প্রেমের গভীরতা, স্মৃতিচারণের সাহিত্যিক রূপ, মৃত্যু ও বিচ্ছেদের কবিতার ধারা, এবং আধুনিক বাংলা কবিতার বৈচিত্র্য সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে।
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি কবিতাটির লেখিকা কে?
এই কবিতাটির লেখিকা তসলিমা নাসরিন (জন্ম: ১৯৬২)। তিনি একজন বাংলাদেশী-সুইডিশ লেখিকা, কবি, ঔপন্যাসিক ও মানবাধিকার কর্মী। রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী কবি, যার সঙ্গে তসলিমা নাসরিনের গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
প্রশ্ন ২: ‘তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
রুদ্র মৃত্যুর আগে তসলিমাকে আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলেন। এখন তিনি সেই চিঠি লিখছেন — রুদ্র মৃত, তাই তার ঠিকানা এখন আকাশ।
প্রশ্ন ৩: ‘তুমি আসলে বেঁচেই গেছো রুদ্র’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
শরীর মরে গেলেও রুদ্র তাঁর কবিতায়, স্মৃতিতে, ভালোবাসায় বেঁচে আছেন। এটি অমরত্বের প্রতীক।
প্রশ্ন ৪: ‘ওরা তোমাকে ট্রাকে উঠিয়ে মিঠেখালি রেখে এলো’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মিঠেখালি — রুদ্রের সমাধিস্থল। ট্রাকে করে লাশ নিয়ে গিয়ে সেখানে রেখে আসা — মৃত্যু ও শেষযাত্রার প্রতীক।
প্রশ্ন ৫: ‘নেলী খালা’ কে?
নেলী খালা — রুদ্রের লালবাগের প্রেমিকা, যার জন্য তিনি দিস্তা দিস্তা প্রেমের কবিতা লিখেছিলেন। তসলিমা সেই কবিতা দেখে কেঁদেছিলেন।
প্রশ্ন ৬: ‘এখন তোমার শ’য়ে শ’য়ে বন্ধু বেরোচ্ছে। তারা তখন কোথায় ছিলো?’ — বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মৃত্যুর পর অনেকেই রুদ্রের বন্ধু বলে দাবি করে। কিন্তু জীবনে যখন তিনি কষ্টে ছিলেন, পয়সার অভাবে সিঙ্গারা খেয়ে দুপুর কাটিয়েছেন, তখন তারা ছিলেন না।
প্রশ্ন ৭: ‘শিমুল’ কে?
শিমুল — রুদ্রের শেষ জীবনের প্রেমিকা। তিনি শিমুলকে নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন এবং তাকে বিয়ের কথাও ভেবেছিলেন।
প্রশ্ন ৮: ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও’ — এই গানটি কোথায় লেখা হয়েছিল?
গানটি রুদ্র মংলায় বসে লিখেছিলেন। এটি বিচ্ছেদ ও বিদায়ের গান।
প্রশ্ন ৯: ‘ইতি, সকাল’ — ‘সকাল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘সকাল’ — তসলিমা নাসরিনের ডাকনাম। রুদ্র তাকে সকাল বলে ডাকতেন।
প্রশ্ন ১০: কবিতার মূল শিক্ষা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা কী?
কবিতাটি আমাদের শেখায় — মৃত্যু বিচ্ছেদ ঘটায়, কিন্তু স্মৃতি মুছে দেয় না। প্রিয় মানুষের জন্য চিঠি লেখা, তার সঙ্গে কথা বলা, তার স্মৃতিতে বেঁচে থাকা — এই সবই ভালোবাসার অমরত্বের চিহ্ন। এটি প্রেম, স্মৃতি, বিচ্ছেদ, এবং মৃত্যুর পরেও প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সংযোগ রাখার আকাঙ্ক্ষার এক অসাধারণ কাব্যচিত্র।
ট্যাগস: রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি, তসলিমা নাসরিন, তসলিমা নাসরিনের কবিতা, আধুনিক বাংলা কবিতা, প্রেমের কবিতা, স্মৃতির কবিতা, রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, নেলী খালা, শিমুল, বাংলা কবিতা বিশ্লেষণ
© Kobitarkhata.com – কবি: তসলিমা নাসরিন | কবিতার প্রথম লাইন: “প্রিয় রুদ্র, / প্রযত্নেঃ আকাশ, / تুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে।” | প্রেম ও স্মৃতির কবিতা বিশ্লেষণ | আধুনিক বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন






