কবিতার খাতা
উৎসর্গ – উৎপলকুমার বসু
দয়িতা, তোমার প্রেম আমাদের সাক্ষ্য মানে নাকি?সূর্য-ডোবা শেষ হল কেননা সূর্যের যাত্রা বহুদূর।নক্ষত্র ফোটার আগে আমি একা মৃত্তিকার পরিত্যক্ত,বাকিআঙুর, ফলের…
দয়িতা, তোমার প্রেম আমাদের সাক্ষ্য মানে নাকি?সূর্য-ডোবা শেষ হল কেননা সূর্যের যাত্রা বহুদূর।নক্ষত্র ফোটার আগে আমি একা মৃত্তিকার পরিত্যক্ত,বাকিআঙুর, ফলের…
ছিটকিনি নড়ে উপরের জানালায়,একটু কবাট ফাঁক,চুড়ির ঝিলিক একটু আলোর চিড়দুই খানি শাদা হাত :দুইটি কবাট দুই দিকে স’রে যায়গোধূলির আলো…

সময়কে নিয়ে অনেক মজা দেখা গেল।কখনও তাকে ইন্দ্রধনুর রঙে রাঙানো হল,কখনও হাসিতে উছলে তোলা হলবা চাপা কান্নায় কাঁপানো হল,কখনও-বা তাকে…
বিশ্বাস নাম লিখিয়েছে তর্কের খাতায়বিশ্বাস নাম লিখিয়েছে রক্তের খাতায়বিশ্বাস নাম লিখিয়েছে মৃতুর খাতায়শ্মশানের কাছে দিনযাপনপুরনো দিনলিপিতে যা কিছু ছিল নির্বাসনরথে…
টুকটুকে তোর পা দুখানি, আলতা পরাই আয়।চটক দেখে অবাক হয়ে, থাকবি সুখে তায়।আগে করবি যতন পায়ে, শেষেতে সোনা গায়ে,পা-দুখানি ধরলে…

কত মানুষের ব্যথা পুঞ্জ হয়ে মেঘেআকাশে ঘনায় উদ্বেগে।গামান্তের রুদ্ধ বুকে কার কাঁদা,মর্মান্তিক কোপা মৃত্যু-বাধা,জনে জনে জলে ঝড়ে ডোবে নৌকা কত,অনশন-মাঠে…
কাক তা সে যত কালোই থাকহোক না কেন বেসুরো তার ডাকতবু কাকের মাংস খায় না কোন কাকএকের তরে অন্যে আসে ঝাঁকের…
এখনো কথাগুলো মৌমাছি হয়ে ওড়ে প্রতিস্বরেআর অহেতুকী আগুনে তাদের পাখাদুটি পোড়েকী যে সেই তীব্র আকর্ষণ কেউ বোঝে নাঅন্ধকারেও নক্সা আঁকে…
বিধি আমার বামে থাকে বাস্তবতা ডানেসুখের ভেতর দুঃখ কষ্ট অনেকখানি টানে একটু একটু করে যখন একলা পথে চলিকেউ আসে না…
মানুষেরা নাকি এক সেকেন্ডে চার ফুট হাঁটতে পারে সাধারণতবারো কোটি মানুষ আমরাআমরা সবাই একসঙ্গে হাঁটলে মোট আটচল্লিশ কোটি ফুটঅর্থাৎ ষোল কোটি গজ, তার মানেএক সেকেন্ডে প্রায় নব্বই হাজার নয় শ দশ মাইলএগিয়ে যেতে পারি স্বাধীনতা পাওয়ার পর বিশ বছর পার হয়ে গেছেঅথচ আমরা সবাই একই জায়গায় একই বিন্দুতেদাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দৌড়িয়ে মরছি সব সময়এক ইঞ্চিও অগ্রসর হতে পারছি না ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুকে ভুলতে বসেছিজয় বাংলা নামক দীপ্র বজ্রনির্ঘোষ ভুলতে বসেছিসাতই মার্চের অতন্দ্র স্বাধীনতার ডাক ভুলতে বসেছিভাসানীর আস্সালামুআলাইকুম ভুলতে বসেছিপাকসেনা, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসদেরঅমানুষিক অত্যাচারের কথা ভুলতে বসেছিআমাদের মা-বোনদেরধর্ষিত হবার কথা ভুলতে বসেছি ‘প্রতিটি বাঙালি মেয়েকে গর্ভবতী করেখাঁটি পাকিস্তানি সন্তানের জন্ম দেব’ – শুয়োরের বাচ্চাদেরসেই রক্তে-আগুন-জ্বালানো সব কথা ভুলতে বসেছিআমরা মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের কথা ভুলে গেছিআমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা ভুলে গেছি আসলে এতো ভুলোমন নিয়েস্বাধীনতা রক্ষা করা যায় না তা হলে স্বাধীনতাকে কীভাবে রক্ষা করা যায়?সেকেন্ডে মাত্র চার ফুট খানিক এগিয়ে গেলেইএকে রক্ষা করা যায় আসুন স্বাধীনতা যুদ্ধকে বুকের মাঝখানে রেখে তাই একসঙ্গেআমরা সবাই এক সেকেন্ডে চার ফুট পথ এগিয়ে যাই বন্ধুগণ এক সেকেন্ডে মাত্র চার ফুট খুব বেশি কিছু নয়।